Skip to main content

Posts

Showing posts with the label কবিতা

ছোট্ট সপ্নের জন্য কবিতা

আমি সম্ভবত খুব ছোট কিছুর জন্য -হুমায়ুন আজাদ আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্য মারা যাবো ছোট ঘাসফুলের জন্যে একটি টলোমলো শিশিরবিন্দুর জন্যে আমি হয়তো মারা যাবো চৈত্রের বাতাসে উড়ে যাওয়া একটি পাঁপড়ির জন্যে একফোঁটা বৃষ্টির জন্যে আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো দোয়েলের শিসের জন্যে শিশুর গালের একটি টোলের জন্যে আমি হয়তো মারা যাবো কারো চোখের মণিতে গেঁথে থাকা একবিন্দু অশ্রুর জন্যে একফোঁটা রৌদ্রের জন্যে আমি সম্ভবতখুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো এক কণা জ্যোৎস্নার জন্যে এক টুকরো মেঘের জন্যে আমি হয়তো মারা যাবো টাওয়ারের একুশ তলায় হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজাপতির জন্যে এক ফোঁটা সবুজের জন্যে আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো খুব ছোট একটি স্বপ্নের জন্যে খুব ছোট দুঃখের জন্যে আমি হয়তো মারা যাবো কারো ঘুমের ভেতরে একটি ছোটো দীর্ঘশ্বাসের জন্যে একফোঁটা সৌন্দর্যের জন্যে।

আমারে ভুইলা যাইয়েন না প্লিজ

আমারে ভুইলা যাইয়েন না প্লিজ! ভুল কইরাও যদি ভুইলা যান–  আমি জানলে কষ্ট পামু।  জীবনে কত অপ্রয়োজনীয় জিনিসই তো  আমরা মনে রাইখা দিই।  এই যেমন দূরের পথে হাঁটতে গিয়া  কবে কোথাও কোন পথে হোঁচট খাইলাম।  অদেখা তারকাঁটায় লাইগা  শখের জামাটা ছিঁড়া গেল৷  ভীড়ের ভেতর লোকাল বাসে উঠার সময়  না দেখা কেউ একজন হাতটা ধইরা টেনে তুললো।  এমন অপ্রয়োজনীয় অনেককিছুই থাকে;  যা মনে না রাখলেও চলতো।  কিন্তু আমাদের মনে থাকে৷  আপনি আমারে ভুইলা যাইয়েন না প্লিজ!  মনের এক কোণায় রাইখা দিয়েন।  ফুল হয়ে যাওয়া ফোনের স্টোরেজের মতো  যদি কখনো মনের মেমোরি পরিপূর্ণ হইয়া যায়।  যদি স্টোরেজের প্রয়োজনে কোনোকিছু ডিলিট করা লাগে, আপনি অন্যকিছু ডিলিট কইরেন।  তবুও আমারে থাকতে দিয়েন মনে।  যত্নে রাখেন কিংবা অযতনে। Salman Habib - সালমান হাবিব

তোমারে পেয়ে গেলে

-ভালোই হইছে তোমারে আমি পাইনাই, তোমারে পায়া গেলে আমার অহংকার বেড়ে জেতো, মানুষের কাছে তোমারে নিয়ে অহংকার করতাম, মানুষের কাছে পূর্ণতার গল্প করতাম, ভালোই হইছে আমি তোমারে পাইনাই তোমারে পাইলে কষ্ট কি বুঝতামি না, তোমারে পাইলে কষ্টের সাথে আমার কখনো পরিচয় হইতো বলে মনে হয় না, কষ্টের সাধ পাওয়া হইতো না, বিচ্ছেদের যন্ত্রণা পাওয়া হতো না তোমারে পাইলে,,,! ভালোই হইছে তুমি আমার হওনাই তুমি আমার হইলে তোমারে নিয়া অনেক কিছু ভাবা লাগতো, ভাবা লাগতো কি করলে তোমারে আমি আগলে রাখতে পারমু, কি করে তোমারে শুখে রাখতে পারমু,,,! তুমি আমার না হয়ে ভালোই করছো, এখোন আর নিয়ম করে কাওকে ভালোবাসি কথাটা আমার বলা লাগবোনা, কাওকে নিয়া আর অতো চিন্তাও করা লাগবোনা,,,! ভালোই হইছে তুমি অন্য কারো হইছো, তুমি যদি আমার হইতা ভালোবাসা যে এতো নিষ্ঠুর এটা আমি কখনোই বুঝতামি না, বুঝতাম না মানুষ এমন করেও পরিবর্তন হতে পাড়ে,, তুমি যদি এখোনো আমারে ভালোবাসতা, তাহলেনিজের শরীলের খুব যত্ন নিতাম, তখন আর চোখের নিচের কালো দাগ দেখতে পেতাম না, কারো কথা ভাবতে ভাবতে কি ভাবে রাত জাগতে হয় তাও জানা হইতো না জাগতে হয় ভালোই হইছে তুমি আমার হওনাই, তুমি আ...

চোখ

এইমাত্র যে মেয়েটা তার সর্বনাশা চোখদুটো দিয়ে আমার দিকে অপলক তাকিয়ে রইলো, আমি চাই সে শুধু আমার হোক।  তার পাহাড়প্রমাণ জেদ হোক, শীতের চাদরের মতো মখমলে হোক বা ঝড়ের মতো মর্মান্তিক, তবু সে শুধুমাত্র আমারই হোক,,.. ওর নকশাকাটা জামদানির আঁচল বেয়ে অপেক্ষা নামুক, নাকছাবিতে লেগে থাক আক্ষেপ।  আমি চাই প্রতিটা ভুলের পর মেয়েটা ছুট্টে এসে আছড়ে পড়ুক আমার বুকে, ঠিক যেমন করে এক উদাসীন কালবৈশাখী তোলপাড় করে দেয় কোনো সাজানো বিকেল! মাথা নামিয়ে নালিশ করুক, ফুঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে কাজল লেপ্টে একাকার করে দিক জামার দু-পাশ,  তারপর খুব শান্ত হয়ে হাতে হাত রেখে জানতে চাক “আমি না থাকলে ঠিক কতটা এলোমোলো হবে তুমি?” collected from  Mukherjee Nil

তবু মনে রেখো

তবু মনে রেখো ___ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তবু মনে রেখো যদি দূরে যাই চলে। যদি পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নবপ্রেমজালে। যদি থাকি কাছাকাছি, দেখিতে না পাও ছায়ার মতন আছি না আছি– তবু মনে রেখো। যদি জল আসে আঁখিপাতে, এক দিন যদি খেলা থেমে যায় মধুরাতে, তবু মনে রেখো। এক দিন যদি বাধা পড়ে কাজে শারদ প্রাতে– মনে রেখো। যদি পড়িয়া মনে ছলোছলো জল নাই দেখা দেয় নয়নকোণে– তবু মনে রেখো। #collected

গোপন প্রিয়া"-----কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

"গোপন প্রিয়া" -----কবি কাজী নজরুল ইসলাম। "পাইনি ব’লে আজো তোমায়, বাসছি ভালো, রাণি, মধ্যে সাগর,এ-পার ও-পার করছি কানাকানি! "আমি এ-পার,তুমি ও-পার মধ্যে কাঁদে বাধার পাথার ও-পার হ’তে ছায়া-তরু দাও তুমি হাত্ছানি, আমি মরু,পাইনে তোমার ছায়ার ছোঁওয়াখানি। "নাম-শোনা দুই বন্ধু মোরা হয়নি পরিচয়! আমার বুকে কাঁদছে আশা, তোমার বুকে ভয়! "এই-পারী ঢেউ বাদল-বায়ে আছড়ে পড়ে তোমার পায়ে, আমার ঢেউ-এর দোলায় তোমার ক’রলো না কূল ক্ষয় কূল ভেঙেছে আমার ধারে-তোমার ধারে নয়! "চেনার বন্ধু,পেলাম না ক’ জানার অবসর। গানের পাখী ব’সেছিলাম দু’দিন শাখার’পর। "গান ফুরালো যাব যবে, গানের কথাই মনে রবে, পাখী তখন থাকবো না ক’-থাকবে পাখীর স্বর! উড়ব আমি-কাঁদবে তুমি ব্যথার বালুচর! "তোমার পারে বাজ্ল কখন আমার পারের ঢেউ, অজানিতা!কেউ জানে না জানবে না ক’কেউ। "উড়তে গিয়ে পাখা হ’তে একটি পালক প’ড়লে পথে ভুলে’ প্রিয় তুলে যেন খোঁপায় গুঁজে নেও! ভয় কি সখি?আপনি তুমি ফেলবে খুলে এ-ও! "বর্ষা-ঝরা এমনি প্রাতে আমার মত কি? ঝুরবে তুমি এক্লা মনে বনের কেতকী? মনের মনে নিশীথ্-রাতে চুম্ দেব...

কেউ একটা তো চাই

কেউ একটা তো চাই                __ রুদ্র গোস্বামী কেউ একটা তো চাই, টিপ সরে গেলে আয়নার মতো বলবে ‘টিপ বাঁকা পরেছ।’ চোখের কাজল লেপটে গেলে ধরিয়ে দেবে। কেউ একটা তো চাই, পিছু ডাকবে বলবে ‘সাবধানে যেয়ো।’ কেউ একটা তো চাই, ঘড়ির কাঁটার মতো কাছে থাকবে। অভিমান দেখলেই বলবে, ‘সবুজ পাতা তোমাকে ভালোবাসি।’ কেউ একটা তো চাই, ভুল গুলোকে শুধুই বকবে না। কাছে টেনে বলবে 'বোকা মেয়েটা, আর কিছু ভালো রাখা যত্ন নিয়ো।’ কেউ একটা তো চাই, খোলা জানালার মতো আমাকে আকাশ দেখাবে। বলবে ‘এখানে ঠিকানা রেখে তুমি পাখি হয়ে যাও।’ কেউ একটা তো চাই, হাওয়ার শিসের মতো কানে এসে বলবে ‘আমাকে ছাড়া কারো প্রেমে পড়তে নেই।’ কেউ একটা তো চাই, শাসন করবে আমার খুচরো বিষাদ, আর আমাকে লুঠতে আসা ডাকাত স্মৃতি। কেউ একটা তো চাইই, গ্রীষ্মে বিছিয়ে রাখবে বুকে শীতলপাটি, বলবে ‘এই বুকের মধ্যে তোমাকে বসতে দিলাম।’ কেউ একটা তো চাইই, কাছে থাকবে ‘তুমি’ বললেই যেমন দুঠোঁটে দুঠোঁট মেশে। কেউ তো একটা চাইই, কিছুটা সে তাঁর মতো থাক, কিছুটা আমার মতো হবে। collected

অভিশাপ কবিতা

" অভিশাপ " __ কবি কাজী নজরুল ইসলাম। "যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে, অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে-  বুঝবে সেদিন বুঝবে!  ছবি আমার বুকে বেঁধে পাগল হ’লে কেঁদে কেঁদে ফিরবে মোর” কানন গিরি,সাগর আকাশ বাতাস চিরি’যেদিন আমায় খুঁজবে-                       বুঝবে সেদিন বুঝবে! স্বপন ভেঙে নিশুত্‌ রাতে জাগবে হঠাৎ চমকে, কাহার যেন চেনা-ছোঁওয়ায় উঠবে ও-বুকে ছমকে,- জাগবে হঠাৎ চমকে! ভাববে বুঝি আমিই এসে  ব’সনু বুকের কোলটি ঘেঁষে, ধরতে গিয়ে দেখবে যখন শূন্য শয্যা! মিথ্যা স্বপন! বেদ্‌নাতে চোখ বুঁজবে-                       বুঝবে সেদিন বুজবে। গাইতে ব’সে কন্ঠ ছিঁড়ে আস্‌বে যখন কান্না, ব’লবে সবাই-“ সেই য পথিক তার শেখানো গান না?’’ আস্‌বে ভেঙে কান্না! প’ড়বে মনে আমার সোহাগ, কন্ঠে তোমার কাঁদবে বেহাগ! প’ড়বে মনে অনেক ফাঁকি অশ্র”-হারা কঠিন আঁখি ঘন ঘন মুছবে-                       বুঝ্‌বে সেদিন বুঝবে! আবার যেদিন শিউলি ফুটে ...

বেশ্যা কবিতা

"বেশ‍্যা" কবিতাটি কবি কাজী  নজরুল ইসলাম এর নামে প্রচার হলেও কবিতাটি কবি কাজী  নজরুল ইসলাম এর লেখা নয়। বিষয় টি আমাদের নজরে আসলে আমরা গুগল সার্চের মাধ্যমে জানতে পারি কবিতাটি বেশ্যা কবিতাটি " সাজ্জাদুল ইসলাম " নামে এক ব্যাক্তির লেখা।  বেশ্যা কবিতাটি  [ আত্মদর্শনে সূফীবাদ→Master of Sufism ] পেজের মাধ্যমেও একাধিকবার কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর নামে প্রচার করা হয়েছে।  কিন্তু সেটা আমরা Social Media অন্যান্য Website থেকে সংগ্রহ করে প্রচার করা হয়েছিল।তাই আমরা  পেজের সকল ফলোয়ারদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।    "বেশ্যা" সাজ্জাদুল ইসলাম সাধুর নগরে বেশ্যা মরেছে পাপের হয়েছে শেষ বেশ্যার লাশ হবে না দাফন এইটা সাধুর দেশ। জীবিত বেশ্যা ভোগে তো আচ্ছা, মরিলেই যত দোস? দাফন কাফন হবে না এখন সবে করে ফোস ফোস। বেশ্যা তো ছিল খাস মাল,তোদের রাতের রানী দিনের বেলায় ভুরু কোচ কাও? মরিলে দেওনা পানি! "সাধু সুনামের ভেক ধরিয়া দেখালি দারুন খেলা, মুখোশ তোদের খুলবে অচিরে  আসবে তোদের বেলা। "রাতের আধারে বেশ্যার ঘর স্বর্গ তোদের কাছে দিনের আলোতে চিননা তাহারে?  তাকাও নাকো লাজে! "চিনি চিনি ভাই ...

বৈশ্যা কবিতা

বেশ‍্যা"কবিতাটি যখনই পড়তে যাই, আমার শরীরের প্রতিটা লোমকুপ শিরশির করে উঠে। বেশ্যা" বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম সাধুর নগরে বেশ্যা মরেছে পাপের হয়েছে শেষ, বেশ্যার লাশ হবে না দাফন এইটা সাধুর দেশ।  জীবিত বেশ্যা ভোগে তো আচ্ছা, মরিলেই যত দোস? দাফন কাফন হবে না এখন সবে করে ফোস ফোস। বেশ্যা তো ছিল খাস মাল, তোদের রাতের রানী, দিনের বেলায় ভুরু কোচ কাও? মরিলে দেওনা পানি! সাধু সুনামের ভেক ধরিয়া দেখালি দারুন খেলা, মুখোশ তোদের খুলবে অচিরে  আসবে তোদের বেলা। রাতের আধারে বেশ্যার ঘর স্বর্গ তোদের কাছে,  দিনের আলোতে চিননা তাহারে?  তাকাও নাকো লাজে! চিনি চিনি ভাই সব সাধু রেই হরেক রকম সাজ, সুযোগ পেলেই দরবেশী ছেরে দেখাও উদ্দাম নাচ! নারী আমাদের মায়ের জাতি  বেশ্যা বানালো কে?  ভদ্র সমাজে সতীর ছেলেরা খদ্দের সেজেছে? গরীবের বৌ সস্তা জিনিস সবাই ডাকো ভাবি, সুযোগ পেলেই প্রস্তাব দাও আদিম পাপের দাবি।  স্বামী যখন মরলো ভাবির দুধের শিশু কোলে, ভদ্র দেবর সুযোগ খোঁজে সহানুভূতির ছলে,  দিনের মত দিন চলে যায়,  হয় না তাতে দোষ মরা লাশের সুযোগ পেয়ে মোল্লার রোষ। মোল্লা সাহেব নায়েবে রাসুল ফতোয...

আমার সমস্ত প্রার্থনা

আমার সমস্ত প্রার্থনা ডিঙায়া তোমারে যে পাইলো— সে যেনো তোমারে আগলাইয়া রাখে, চেইনস্মোকার যেমন আগলাইয়া রাখে তুমুল বৃষ্টিতে বুক পকেটের অন্তীম সিগারেট। আমার চোখের জলরে হারাইয়া যে তোমারে জিতে নিলো—সে তোমারে ভালোবাসুক। শরীর পুড়ে যাওয়া জ্বরের রাতে কপালে রাখা মায়ের হাতরে যেমন ভালোবাসে জ্বরে ভুক্তভোগী সন্তান। তোমার মন খারাপে মস্তিস্কের শেষ শিরা হতে কবিতা লিখুক। শাড়ি, চুড়ি, আলতা না দিলেও সে কুঁড়িয়ে দিক মুঠো ভর্তি শিশির মুদ্রিত জুঁই। আমারে আজন্মকাল অভাবী মানুষের কুয়োতে ফেলে দিয়ে যে তোমারে লাভ করে নিলো, সে তোমারে হারানোর ভয় করুক। ফাঁসির দড়ির সম্মুখে দাঁড়ায়া জীবন হারানোর পূর্বে মৃত্যুকে যেমন ভয় করে কয়েদি।  অতঃপর — আমার ঠোঁটে ছাইপাঁশ সেঁটে দিয়ে যে তোমার ঠোঁট মুখস্থ করে নিলো- সে যেন অমন আনন্দ নিয়া তোমারে চুমু খায় রোজ, প্রসবকালীন ব্যাথা ভুলে সন্তানের কপালে প্রথমবার মা হওয়ায় যেমন আনন্দ নিয়ে চুমু খায় ঊনিশের যুবতী। লেখা: আরিফ হুসাইন

না ছোয়া ভলবাসা

আপনারে না ছুঁইয়্যা, না দেইখ্যা যতখানি ভালোবাসছি, ততখানি ভালো আমি আমারেই কোনদিন বাসি নাই। কাছে আইলেন না, পাশে বইলেন না, কোনদিন চক্ষে চক্ষু রাইখ্যা হাসলেন না। তবুও দ্যাখেন, আপনারে ক্যান যেনো 'আমার আমার লাগে। ক্যান এমন লাগে কইতে পারবেন?  নগর থেকে নগর দু'চক্ষের দূরে আপনি, চক্ষু দুইখান বন্ধ করলেই, আপনারে দু'চক্ষুর সামনে মুচকি মুচকি হাসতে দেহি। ইহা পাগলামো না আপনি কন! সাঁতার না যাইনা প্রেম নদীতে ঝাঁপ দিলাম, চিমটিখান মায়া কইরা হাতখানা বাড়াইয়্যা দিলেন না। আমি মরলাম তো মরলাম, আপনার প্রেম নদীতে ডুইবা ডুইবা মরলাম। কি মায়ায় বান্ধিলেন আমারে! এহন যেদিতে তাকাই, শুধু আপনারে দেহি। চক্ষের মধ্যে কি লেন্স লাগাইয়্যা দিলেন, শয়নে সপনে শুধু দুইখান চক্ষের মধ্যে আপনি থাহেন ।  আপনি আমার মনের মধ্যে ঢুইক্কা, এক্কাদুক্কা খেইলাও আমার হইলেন না। আপনার লাইগ্যা কতখানি কলিজাডা পুড়ে, আপনারে বুঝাইতে পারলাম নাহ। ধরেন একখান মানুষ মরতাছে, শেষ নিঃশ্বাস ছাড়োনের আগে 'যদি তার ফুসফুস কেউ কুঠুরি দিয়া কুপায়, হের যেইখান কষ্টখান আইবো, ওইরকম কষ্ট কিংবা তারচে বেশি কষ্ট, আমার হইতাছে। দ্যাখেন, আপনি কিন্তু এর কিছুই জানলেন ন...

জানি

জানি, জীবন মানেই সংগ্রাম করে বেঁচে থাকা। তবুও কোন কোন রাতে ঘুমাইতে গেলে চোখ ভিঁজে যায়। জানি,  দুঃখ থাকে না চিরকাল। তবুও কোন কোন দিন মাথার পাশে একটা রিভালবার ঠেকিয়ে ইচ্ছে করে ঠেসে ভরে দেই পাঁচ রাউন্ড গুলি। জানি, একমাত্র ব্যার্থ মানুষরাই পৃথিবীর বুকে এনে দিতে পারে বিপুল বিপ্লব। তবুও কোন কোন দিন যঘন্যভাবে ঘৃণা করতে ইচ্ছে করে নিজেকে। জানি,  আনন্দের দিনগুলো মুছে গেছে মায়ের আঁচলে ভাত খেয়ে মুখ মুছার দিন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। তবুও কোন কোন দিন পছন্দের গানকেও লাগে ভীষণ বিরক্ত, ক্ষীণ। জানি, জীবন থেকে মানুষ হারানো নিয়ম, থেকে যাওয়া আশ্চর্যের। তবুও কোন কোন দিন কবিতা পড়লে হৃদয় এত শূন্য হয়ে যায়। জানি;  যে ক্ষমা করে দেয় সে দয়ালু, ক্ষমা করা মহৎ গুন। তবুও কোন কোন দিন মনে হয় পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে ক্ষমা করে দিলেও, নিজেকে ক্ষমা করার কোন উপায় আমার জানা নেই। জানি,  জন্মালেই মরতে হয়, একদিন আগে অথবা পরে শুধু জানি না -কেনো মানুষ জীবন থেকে পালাতে গিয়ে আত্মহত্যা করে... [ “জানি” তেরো ডিসেম্বর, দু'হাজার তেইশ ] লেখা: আরিফ হুসাইন

গতির ক্ষতি

বাইক টা দিছে শ্বশুরমশাই      আব্বা দিছে তেল তাই তো আমার গতির সাথে    জেট বিমান ও ফেল। দুর্ঘটনা ঘটলে ঘটুক  আমার কিসের ভয় গেলে যাবে বাপ-শ্বশুরের    আমার কিছু নয়। চলরে আমার মোটরগাড়ি        জোরসে মারো টান কে কি বলে শুনব না আজ      ধরছি চেপে কান। আহা হা হা কি মনোরম   গাঁয়ের বাঁকা রাস্তা ছয় শ কিলো ঘুরে এসে   করব রে আজ নাস্তা। এমন গতি তুলবরে আজ      আমার গতি দেখে। থমকে যাবে পথের পথিক         পন্থ চলা রেখে। গতির চোটে কাঁপছে মানুষ      উড়ছে পথের ধুলো লাফিয়ে উঠছে পথের ধারের       বান্ধা ছাগল গুলো। গতি আর ও বাড়িয়ে দিলাম        পথটা পেয়ে সরু হঠাৎ দেখি সামনে আমার        বিশাল বড় গরু। ধাক্কা লেগে হুন্ডা আমার        পড়ল গিয়ে খাদে আমার তখন হুঁশ ছিল না    ফিরছে দুদিন বাদে। দু দিন বাদে জ্ঞান ফিরলে         চেয়ে দেখি ভাই আমার যে দুই পা ছ...

জোনাকিরা

জোনাকিরা —আহসান হাবীব তারা- একটি দুটি তিনটি করে এলো তখন- বৃষ্টি-ভেজা শীতের হাওয়া বইছে এলোমেলো, তারা- একটি দু’টি তিনটি করে এলো। থই থই থই অন্ধকারে ঝাউয়ের শাখা দোলে সেই- অন্ধকারে শন শন শন আওয়াজ শুধু তোলে। ভয়েতে বুক চেপে ঝাউয়ের শাখা , পাখির পাখাউঠছে কেঁপে কেঁপে । তখন- একটি দু’টি তিনটি করে এসে এক শো দু শো তিন শো করে ঝাঁক বেঁধে যায় শেষে তারা- বললে ও ভাই, ঝাউয়ের শাখা, বললে, ও ভাই পাখি, অন্ধকারে ভয় পেয়েছো নাকি ? যখন- বললে, তখন পাতার ফাঁকে কী যেন চমকালো। অবাক অবাক চোখের চাওয়ায় একটুখানি আলো। যখন- ছড়িয়ে গেলো ডালপালাতে সবাই দলে দলে তখন- ঝাউয়ের শাখায়- পাখির পাখায় হীরে-মানিক জ্বলে। যখন- হীরে-মানিক জ্বলে তখন- থমকে দাঁড়াঁয় শীতের হাওয়া চমকে গিয়ে বলে- খুশি খুশি মুখটি নিয়ে তোমরা এলে কারা? তোমরা কি ভাই নীল আকাশের তারা ?আলোর পাখি নাম জোনাকি জাগি রাতের বেলা, নিজকে জ্বেলে এই আমাদের ভালোবাসার খেলা। তারা নইকো- নইকো তারা নই আকাশের চাঁদ ছোট বুকে আছে শুধুই ভালোবাসার সাধ।

কৃপন

কৃপণ(খেয়া) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  আমি    ভিক্ষা করে ফিরতেছিলেম                           গ্রামের পথে পথে,               তুমি তখন চলেছিলে                           তোমার স্বর্ণরথে।               অপূর্ব এক স্বপ্ন-সম               লাগতেছিল চক্ষে মম--               কী বিচিত্র শোভা তোমার,                           কী বিচিত্র সাজ।               আমি মনে ভাবেতেছিলেম,                           এ কোন্‌ মহারাজ।   আজি   শুভক্ষণে রাত পোহালো                           ভেবেছিলেম তবে, ...

রাখাল ছেলে

রাখাল ছেলে  জসীম উদ্‌দীন---(রাখালী কাব্যগ্রন্থ) “রাখাল ছেলে ! রাখাল ছেলে ! বারেক ফিরে চাও, বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও?” ওই যে দেখ নীল-নোয়ান সবুজ ঘেরা গাঁ, কলার পাতা দোলায় চামর শিশির ধোয়ায় পা, সেথায় আছে ছোট কুটির সোনার পাতায় ছাওয়া, সাঁঝ-আকাশের ছড়িয়ে-পড়া আবীর রঙে নাওয়া, সেই ঘরেতে একলা বসে ডাকছে আমার মা- সেথায় যাব, ও ভাই এবার আমায় ছাড় না।” “রাখাল ছেলে ! রাখাল ছেলে ! আবার কোথা ধাও, পুব আকাশে ছাড়ল সবে রঙিন মেঘের নাও।” “ঘুম হতে আজ জেগেই দেখি শিশির-ঝরা ঘাসে, সারা রাতের স্বপন আমার মিঠেল রোদে হাসে। আমার সাথে করতো খেলা প্রভাত হাওয়া, ভাই, সরষে ফুলের পাঁপড়ি নাড়ি ডাকছে মোরে তাই। চলতে পথে মটরশুঁটি জড়িয়ে দুখান পা, বলছে ডেকে, ‘গাঁয়ের রাখাল একটু খেলে যা।’ সারা মাঠের ডাক এসেছে, খেলতে হবে ভাই। সাঁঝের বেলা কইব কথা এখন তবে যাই।’ “রাখাল ছেলে ! রাখাল ছেলে ! সারাটা দিন খেলা, এ যে বড় বাড়াবাড়ি, কাজ আছে যে মেলা।” কাজের কথা জানিনে ভাই, লাঙল দিয়ে খেলি নিড়িয়ে দেই ধানের ক্ষেতের সবুজ রঙের চেলী। সরিষে বালা নুইয়ে গলা হলদে হওয়ার সুখে। মটর বোনের ঘোমটা খুলে চুমু দিয়ে যায় মুখে। ঝাউয়ের ঝাড়ে বাজায় বাঁশী পউষ-পাগ...

পল্লী জননী

পল্লী জননী - জসীম উদ্‌দীন- রাত থম থম স্তব্ধ নিঝুম, ঘোর-ঘোর-আন্ধার, নিশ্বাস ফেলি, তাও শোনা যায়, নাই কোথা সাড়া কার। রুগ্ন ছেলের শিয়রে বসিয়া একেলা জাগিছে মাতা, করুণ চাহনি ঘুম ঘুম যেন ঢুলিছে চোখের পাতা। শিয়রের কাছে নিবু নিবু দীপ ঘুরিয়া ঘুরিয়া জ্বলে, তারি সাথে সাথে বিরহী মায়ের একেলা পরাণ দোলে। ভন্ ভন্ ভন্ জমাট বেঁধেছে বুনো মশকের গান, এঁদো ডোবা হতে বহিছে কঠোর পচান পাতার ঘ্রাণ? ছোট কুঁড়ে ঘর, বেড়ার ফাঁকেতে আসিছে শীতের বায়ু, শিয়রে বসিয়া মনে মনে মাতা গণিছে ছেলের আয়ু। ছেলে কয়, “মারে, কত রাত আছে? কখন সকাল হবে, ভাল যে লাগে না, এমনি করিয়া কেবা শুয়ে থাকে কবে?” মা কয়“বাছারে ! চুপটি করিয়া ঘুমা ত একটি বার, ” ছেলে রেগে কয় “ঘুম যেআসে না কি করিব আমি তার ?” পান্ডুর গালে চুমো খায় মাতা, সারা গায়ে দেয় হাত, পারে যদি বুকে যত স্নেহ আছে ঢেলে দেয় তারি সাথ। নামাজের ঘরে মোমবাতি মানে, দরগায় মানে দান, ছেলেরে তাহার ভাল কোরেদাও, কাঁদে জননীর প্রাণ। ভাল করে দাও আল্লা রছুল। ভাল কোরে দাও পীর। কহিতে কহিতে মুখখানি ভাসে বহিয়া নয়ন নীর। বাঁশবনে বসি ডাকে কানা কুয়ো,রাতের আঁধার ঠেলি, বাদুড় পাখার বাতাসেতে...

হাট্টিমাটিম’ আসলে ৫২ লাইনের একটি ছড়া, চার লাইনের নয় l

আপনি জানেন কী হাট্টিমাটিম’ আসলে ৫২ লাইনের একটি ছড়া, চার লাইনের নয় l বাঙালিমাত্রই ছোটবেলায় পড়া এই ছড়াটি কোনওদিনই ভুলবেন না কেউ।  কিন্তু ছড়াটি মোটেই মাত্র চার লাইনের নয়। মোটামুটি কথা ফুটলেই বাঙালি শিশুদের যে কয়েকটি ছড়া কণ্ঠস্থ করানো হয়, তার মধ্যে একটি অবশ্যই  ‘হাট্টিমাটিম টিম’।  তারা মাঠে পাড়ে ডিম,  তাদের খাড়া দুটো শিং,  তারা হাট্টিমাটিম টিম।  এর চেয়ে বেশি তথ্য শতকরা ৮০ শতাংশ বাঙালির কাছে রয়েছে কি না সন্দেহ।  আদতে ছড়াটি মোটেই ৪ লাইনের নয়। রোকনুজ্জামান খানের লেখা একটি ৫২ লাইনের সম্পূর্ণ ছড়া।  রোকনুজ্জামান খান জন্মেছিলেন ১৯২৫ সালের ৯ এপ্রিল অবিভক্ত বঙ্গের ফরিদপুর জেলায়। বাংলাদেশে তিনি ‘দাদাভাই’ নামে পরিচিত ছিলেন। সে দেশের জনপ্রিয় সংবাদপত্রের শিশু-কিশোরদের বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন তিনি বহু বছর।    তাঁর রচনার বেশিরভাগই শিশু-কিশোরদের জন্য। হাট্টিমাটিম সম্ভবত তাঁর রচনাগুলির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়।  ১৯৬২ সালে রচিত হয় ছড়াটি। ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয় তাঁকে। ১৯৯৯ সালে মারা যান রোকনুজ্জামান। সেই ৫২ লাইনের আসল...

জীবনের হিসাব

জীবনের হিসাব  – সুকুমার রায় বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই চড়ি সখের বোটে মাঝিরে কন , “বলতে পারিস্ সূর্যি কেন ওঠে? চাঁদটা কেন বাড়ে কমে? জোয়ার কেন আসে?” বৃদ্ধ মাঝি অবাক হয়ে ফ্যাল্ফেলিয়ে হাসে। বাবু বলেন, “সারা জনম মরলিরে তুই খাটি, জ্ঞান বিনা তোর জীবনটা যে চারি আনাই মাটি!” খানিক বাদে কহেন বাবু,”বলত দেখি ভেবে নদীর ধারা কেম্নে আসে পাহাড় হতে নেবে? বলত কেন লবনপোরা সাগরভরা পানি?” মাঝি সে কয়, “আরে মশাই , অত কি আর জানি?” বাবু বলেন, “এই বয়সে জানিসনেও তাকি? জীবনটা তোর নেহাৎ খেলো, অষ্ট আনাই ফাকি।” আবার ভেবে কহেন বাবু, “বলতো ওরে বুড়ো, কেন এমন নীল দেখা যায় আকাশের ঐ চুড়ো? বলত দেখি সূর্য চাঁদে গ্রহণ লাগে কেন?” বৃদ্ধ বলে, “আমায় কেন লজ্জা দেছেন হেন?” বাবু বলেন, “বলব কি আর, বলব তোরে কি তা,- দেখছি এখন জীবনটা তোর বারো আনাই বৃথা।” খানিক বাদে ঝড় উঠেছে, ঢেউ উঠেছে ফুলে, বাবু দেখেন নৌকাখানি ডুবল বুঝি দুলে। মাঝিরে কন, “একি আপদ! ওরে ও ভাই মাঝি, ডুবল নাকি নৌকো এবার ? মরব নাকিআজি?” মাঝি শুধায়, “সাঁতার জানো? মাথা নাড়েন বাবু” মুর্খ মাঝি বলে, “মশাই , এখন কেন কাবু? বাঁচলে শেষে আমার কথা হিসেব কারো পিছে, তোমার দে...