Skip to main content

Posts

Showing posts with the label History

জিন্নাহ বাংলা ভাষার শত্রু। জিন্নাহ বাঙালির শত্রু। কথাটা কি সত্যি? চলুন বিস্তারিত পড়ি

বিপুল বিক্রমে ডাকসুতে কায়দে আযমের ছবি ছেঁড়া হয়েছে। তাও আবার মোদির ডান-পক্ষের শাবকদের উস্কানি আর সমর্থনে। কারণ জিন্নাহ বাংলা ভাষার শত্রু। জিন্নাহ বাঙালির শত্রু। মুসলমান জাতির শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলমানদের স্বাধীন আবাসভূমির প্রতিষ্ঠাতার ছবি থাকতে পারবেনা। এব্যাপারে মোদির ডান পক্ষ, বাম পক্ষ, মধ্যম পক্ষের সকল শাবকেরা ঐক্যবদ্ধ। খুব বেশি কিছু না। শুধুমাত্র এই তিনটা ঐতিহাসিক প্রমাণ দেখুন।  ০১. আযাদীর মাত্র মাস দুয়েক আগেও কায়দে আযম বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগের বিরুদ্ধে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছেন : "... বাংলা ও পাঞ্জাবকে ভাগ করার যে প্রশ্নটি এখন তোলা হচ্ছে, তা কোনো সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়নি; বরং বিদ্বেষ ও তিক্ততা থেকে উদ্ভূত এক অশুভ পদক্ষেপ হিসেবেই এটি করা হচ্ছে। তারা মনে করছে যে ভারত ভাগ হতে চলেছে, তাই এই বিভাজনের প্রেক্ষাপটে — প্রথমত, ব্রিটিশ সরকার ও ভাইসরয়ের পথে আরও জটিলতা সৃষ্টি করা এবং দ্বিতীয়ত, মুসলমানদের মনোবল ভেঙে দেওয়া — হলো তাদের মূল লক্ষ্য। মুসলমানদের বারবার এটা বোঝানো ও জোর দিয়ে বলা হচ্ছে যে, তারা কেবল একটি খণ্ডিত, বিকৃত ও জরাজীর্ণ (কীটদষ্ট) পাকিস্তানই পাবে। এই দ...

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এরসমাবর্তন বক্তৃতা, ২৪ মার্চ, ১৯৪৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর সমাবর্তন বক্তৃতা, ২৪ মার্চ, ১৯৪৮। স্পিচেস এ্যাজ গভর্নর জেনারেল অব পাকিস্তান ১৯৪৪-১৯৪৮। পৃষ্ঠা- ৮২। তারিখঃ ২৪শে মার্চ, ১৯৪৮। (ঢাকার রেডিও পাকিস্তান কর্তৃক রেকর্ডকৃত) ভদ্র মহোদয় ও মহোদয়াগণ, 'আপনাদের উপাচার্য মহাশয় যখন আমাকে এসে অনুরোধ করলেন সমাবর্তনে একটা বক্তৃতা দেয়ার জন্য, আমি তাকে স্পষ্ট বলে দিলাম, আমার নানামুখী এত ব্যস্ততা যে সমাবর্তনের জন্য একটা আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা প্রস্তুত করা হয়তো সম্ভব হবে না, যা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহান বিষয়াদি যেমন শিল্প, ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান, আইন প্রভৃতির সাথে মান সম্মত হয়। যাহোক, আমি অবশ্য প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে সমাবর্তন উপলক্ষ্যে ছাত্রদের সামনে দুটো কথা বলব এবং এখন যে কথাগুলো বলব তা এই প্রতিজ্ঞা পূরণই বলা যায়। প্রথমেই উপাচার্য মহাশয়কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করব, বিভিন্ন গালভরা বিশেষণে আমাকে বিশেষায়িত করার জন্য। জনাব উপাচার্য, আমি এখন যা করছি কিংবা যতটা করতে সক্ষম হয়েছি, মোটামুটি সবই ছিল আমার দায়িত্ব পালন। একজন মুসলমান হিসেবে সততা এবং নিঃস্বার্থতার সাথে দেশের মানুষের সেবা করাটা দায়িত্ব হিসেবেই বর্ত...

ইংরেজি না জানায়, ঝালকাঠিতে শহীদ হন ১৯ জন মুসলমান।

ইংরেজি না জানায়, ঝালকাঠিতে শহীদ হন ১৯ জন মুসলমান। আজ থেকে ১০০ বছর পূর্বে ১৯২৬ সালে শুধুমাত্র ইংরেজি না জানার কারণে, হিন্দুদের কুটচালে ব্রিটিশদের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন ১৯ জন মুসলমান।  ১৯২৬ সাল। বরিশালের ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি গ্রামে মুসলমানদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের টানটান উত্তেজনার মধ্যে কুলকাঠিতে মসজিদ নির্মাণকে স্বাভাবিকভাবেই সহ্য করতে পারেনি স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এভাবে দিন গড়িয়ে বছর পেরুতেই ১৯২৭ সালে হিন্দু-মুসলিম উত্তেজনা শুরু হয়। কুলকাঠির পাশ্ববর্তী গ্রাম পোনাবালিয়ার শিববাড়িতে হিন্দুদের শিবচতুর্দশী হতো। (হিন্দু সম্প্রদায়ের ৫২ টি আন্তর্জাতিক তীর্থস্থানের তৃতীয়টি সেখানে। এই শিববাড়িতে শিবচতুর্দশী মেলা হয়। এখনকার সময়ে দুই কি'বা তিনদিনে মেলা শেষ হলেও তখন একপক্ষ থেকে দীর্ঘ একমাস ব্যাপী এই মেলা চলত।) কুলকাঠি থেকে পোনাবালিয়ার শিববাড়িতে যেতে হতো নবনির্মিত মসজিদ সংলগ্ন রাস্তা পার হয়ে। মেলার শুরু থেকেই হিন্দুরা ঢাকঢোল পিটিয়ে, কির্তন করতে করতে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে শিবচতুর্দশীতে অংশগ্রহণ করতেন। যার ফলে জোহরের ওয়াক্তে ...

ঘসেটি বেগমের ঢাকার দিনগুলো এবং বেঈমানীর অনুশোচনা

ঘসেটি বেগমের ঢাকার দিনগুলো এবং বেঈমানীর অনুশোচনা। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের পেছনে দায়ী তাঁর সেনাপতি মীর জাফর ও খালা ঘসেটি বেগম। ঘসেটি বেগমের জীবনের শেষ দিনগুলো কেটেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত জিঞ্জিরা প্রাসাদে। ঘসেটি বেগম ইতিহাসবিদদের মনোযোগ তেমন পাননি, যে কারণে তার ঢাকা জীবন সম্পর্কে তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। ঘসেটি বেগম দেখতে কেমন ছিল তার সচিত্র উল্লেখ তেমন নেই। 'আমি সিরাজের বেগম' গ্রন্থে সিরাজের স্ত্রী লুৎফার বয়ানে তাকে 'সুন্দরী, চতুর, আভিজাত্যপূর্ণ, বদমেজাজি ও উচ্চাভিলাষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পলাশী যুদ্ধের পর তিনি নিজেও শিকার হয়েছেন প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের। মীর জাফর নবাব হয়ে ঘসেটি বেগমকে বন্দি করেন। কিছুদিন হীরাঝিলে রেখে ঢাকার জিঞ্জিরা প্রাসাদে স্থানান্তর করেন। সেখানে তার সঙ্গে সিরাজের মা, স্ত্রী, কন্যাসহ অনেকজন নারীকেই রাখা হয়। ১৭৬০ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এখানেই বন্দি ছিলেন ঘসেটি বেগম। তার মৃত্যু নিয়ে দুই রকম তথ্য প্রচলিত। কোথাও বলা হয়, মুর্শিদাবাদে ফিরিয়ে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়, তার কবরও সেখানেই। বাংলাপিডিয়া মতে, ১৭৬০ সালে মীর জাফরের ছেলে মীর...