Skip to main content

Posts

Showing posts with the label Life lesson

একাকিত্ব

মানুষ জন্মায় একা, মরেও একা। কিন্তু মানুষের পুরো জীবনটা কাটে একটা জিনিসের পেছনে দৌড়ে—পরিবার, ভালোবাসা, সম্পর্ক। তবুও মাঝেমধ্যে আমরা এমন কিছু খবর পাই, যা বুকের মধ্যে একটা অদ্ভুত ভয় ঢুকিয়ে দেয়। একজন বৃদ্ধ মানুষ বাসায় একা থাকতেন। কয়েকদিন দরজা খোলেননি, কেউ খোঁজও নেয়নি। পরে জানা গেল, ক'দিন আগেই মারা গেছেন। এখানে সবচেয়ে অস্বস্তিকর ব্যাপারটা মৃত্যু না, সবচেয়ে অস্বস্তিকর ব্যাপার হলো তিনি একা ছিলেন। এতটাই একা যে তার অনুপস্থিতিটাও কয়েকদিন কেউ বুঝতে পারেনি। এই ধরনের খবর দেখলে আমরা খুব দ্রুত একটা পক্ষ বেছে নিই। কেউ বলে "সন্তানেরা অকৃতজ্ঞ", আবার কেউ বলে "শুধু সন্তানদের শূলে চড়ানো ঠিক না"। কিন্তু হয়তো আসল প্রশ্নটা অন্য কোথাও। প্রশ্নটা হলো—কীভাবে একজন মানুষ জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে এত নিঃসঙ্গ হয়ে যায়? কারণ নিঃসঙ্গতা আর একা থাকা এক জিনিস না। একজন মানুষ একা থেকেও সুখী হতে পারে, কিন্তু নিঃসঙ্গতা হচ্ছে—যখন আপনার জীবনে মানুষ আছে, কিন্তু কানেকশন নেই। ফোন আছে, কিন্তু কথা নেই। পরিবার আছে, কিন্তু উপস্থিতি নেই। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা—প্রায় ৮৪ বছরেরও...

বিধাতার বিচার সত্যিই অসাধারন

অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদি এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মিনুর সংসার ছিল সর্বসাকুল্যে ৪ বছরের। সেই সংসারে ফুটফুটে এক মেয়েরও জন্ম হয়েছিল। কিন্তু ১৯৮৪ সালে বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাদের। সেই বছরেই হুমায়ূন ফরীদি অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে বিয়ে করে নতুন সংসার সাজিয়ে বসেন। এই দৃশ্যটি দূর থেকে দেখার কষ্ট সহ্য করতে হয় মিনুকে। সন্দেহ নেই, পৃথিবীর ভয়াবহতম কষ্টগুলোর একটি হলো নিজের প্রিয়জনকে অন্যের হতে দেখা। পৃথিবী মানুষের পাওনা বুঝিয়ে দিতে পছন্দ করে। যে কষ্ট হুমায়ূন ফরীদি তাঁর প্রথম স্ত্রী মিনুকে দিয়ে এসেছিলেন, সেই একই কষ্ট ফিরে পেতে দুই যুগের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হলো না তাঁর। ২০০৮ সালে ফরীদিকে ছেড়ে দিয়ে নিজের চেয়ে চৌদ্দ বছরের ছোটো বদরুল আনাম সৌদকে বিয়ে করে ফেললেন সুবর্ণা মুস্তাফা। এই দৃশ্যটি ফরীদিকে দেখতে হলো দূর থেকে, অনেক বছর আগে যেমনটি দেখেছিলেন তাঁর প্রথম স্ত্রী মিনু। বাংলাদেশের কোনো এক জেলায় সংঘটিত হওয়া একটি ঘটনা শুনে শিউরে উঠেছিলাম। বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যা করার সময় সে ছিল মাতাল৷ এক কোপে শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ফেলেছে ছেলে। পুলিশ তদন্তের পর জানা গেল আরেক ভয়ঙ্কর তথ্য। যে বাবাকে...

রিজাইন ভাইভা

সময় টা ২০০৯, আমি সেসময় কাজ করি এশিয়ান পেইন্টস লিঃ  এ খুলনা টেরিটোরি সেলস ইনচার্জ হিসাবে। জব চেঞ্জ করব বলে জব ছাড়লাম। রিজাইন লেটার জমা দিলাম। ফিনান্সিয়াল হিসাব আর চার্জ বুঝিয়ে দেয়া সহ  অন্যান্য ফর্মালিটিও মোটামুটি শেষ। শেষ দিন আমাকে হঠাৎই ডাকা হল হেড অফিসের এইচ আর এ। গেলাম...  সেখানে ছিলেন এইচ আর হেড আর সাথে কোম্পানীর কান্ট্রি চিফ। উনি ছিলেন ইন্ডিয়ান। আমাকে হাসিমুখেই  বসতে বললেন। খোলাখুলিভাবে বললেন আপনার একটা ইন্টারভিউ বাকী আছে। আমি মোটামুটি অবাক, আবার ভীতও...  আমাকে সাহস দিতে বললেন এটা জব এক্সিট ইন্টারভিউ।  আপনি যেদিন চাকরীর জন্য এসেছিলেন সেদিন একটা ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন, আর আজ যাবার বেলায় আর একবার..... আমার কাছে কন্সেপ্ট টা ছিল একেবারে নতুন। আমাকে আরো সাহস দিতে তারা যেটা বললেন তার মর্মার্থ হল - একজন এপ্লয়ী যখন চলে যান জব কুইট করে, তখন তার অনুভূতি জানতে চাওয়াই এই ইন্টারভিউ এর উদ্দেশ্য!  কেমন ছিল এখানের পরিবেশ, কাজের দিনগুলোতে পাওয়া সহযোগীতা  এবং অসহযোগীতা,  কোনো অভিযোগ,  ক্ষোভ বা অপ্রাপ্তি, আবার ভবিষ্যতে কখনো আসার ইচ্ছা থাকবে কিনা, অথবা অন...