Skip to main content

Posts

Showing posts with the label story

রিজিকে থাকলে খাবো ইন শাহ আল্লাহ

এক বন্ধুকে একদিন সন্ধ্যায় কফির নিমন্ত্রণ করেছিলাম। বন্ধু হেসে বলল,  - রিজিকে থাকলে ইনশাআল্লাহ কফি খেতে আসব।  একটু অবাক হয়ে বললাম, - আমি সবসময় তোর মুখে এই লাইনটা শুনি।  ধর্মীয় বিশ্বাস হতে বলিস নাকি কোন ঘটনা আছে?  বন্ধু একটু ইমোশনাল হয়ে গেল। বলল,  - কয়েক বছর আগের ঘটনা। মধ্যপ্রাচ্যের একটা দেশে অফিসের কাজে সংক্ষিপ্ত ট্যুরে গিয়েছিলাম। সেখানে অন্যান্য দেশের আরো কয়েকজন আমন্ত্রিত অতিথি এসেছিলেন। আমি একজন ইউরোপিয়ানকে নিয়ে হোটেল হতে একটা পোর্টে গিয়েছি। পোর্টে আমাদের কাজ সেরে ফেরার সময় ভদ্রলোক বললেন, আমার খুব ক্ষিদা পেয়েছে, আর খুব পিৎজা খেতে ইচ্ছা করছে।  বন্ধু একটু থেমে যোগ করল,  - আমরা মাঝপথে পিৎজা হাটের একটা আউটলেটে থেমেছি। উনি রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলেন, আমি কাউন্টারে গিয়ে বিল শোধ করে দুইটা চিকেন পিৎজা অর্ডার করে উনার সামনে গিয়ে বসলাম।  মিনিট বিশেক পর ওয়েটার দুইটা চিকেন পিৎজা নিয়ে এলো।  উনি চিকেন দেখে বললেন,  - আমার খুব ভেজিটেবল পিৎজা খেতে ইচ্ছা করছে। পাওয়া যাবে?  আমি আবার উঠে গিয়ে ভেজিটেবল পিৎজার দাম শোধ করে অর্ডার দিয়ে এলাম। ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছ...

মায়ার প্রেমের গল্প

মানুষের জীবনটা বড় অদ্ভুত। কিছু জীবন তৈরি হয় কেবলই সহ্য করার জন্য, কোনো এক অদৃশ্য খাতায় জমা হওয়া কষ্টের হিসাব মেলানোর জন্য। স্বপ্নীলের জীবনটাও তেমনই একটা পৃষ্ঠা। বাইরে শ্রাবণের আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামছে। ট্রেনের জানালার কাচটা ঝাপসা। স্বপ্নীল জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে, কিন্তু সে আসলে কিছুই দেখছে না। তার ডান চোখের ঠিক নিচে কালচে একটা দাগ, শাড়ির আঁচলটা টেনে সে সেটা আড়াল করার চেষ্টা করছে। গতকাল রাতেও আনিস তাকে বেল্ট দিয়ে পিটিয়েছে। অপরাধ? তরকারিতে নুন সামান্য কম হয়েছিল। এই নরক থেকে স্বপ্নীল কোনোদিন বের হতে পারবে না। কারণ তার কোলে ঘুমিয়ে আছে চার বছরের ছোট্ট মেয়েটা—নীলু। ডিভোর্স শব্দটা ভাবলেই সমাজ, পরিবার আর নীলুর ভবিষ্যতের অন্ধকার মুখটা সামনে এসে দাঁড়ায়। তাই স্বপ্নীল মুখ বুজে সব সহ্য করে। আজ তিন বছর পর বাপের বাড়ি যাচ্ছে, তাও আনিসের হাত-পা ধরে তিন দিনের ছুটি পেয়েছে। "আপনার মেয়েটা কিন্তু দেখতে একদম পরীর মতো হয়েছে।" হঠাৎ একটা নরম, মিষ্টভাষী কণ্ঠস্বরে স্বপ্নীলের ভাবনার সুতোটা ছিঁড়ে গেল। সে তাকিয়ে দেখল, তার পাশের সিটে এক যুবক বসে আছে। চোখে চশমা, গায়ে সাধারণ একটা হালকা নীল শার্ট, কিন্তু অবয়বে...

দু কাপ চায়ের প্রেম কাহিনি

 সামান্য একটু বৃষ্টি বা জ্যোৎস্না, এক চিমটি মন খারাপ আর এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা ## চায়ের রঙে আঁকা জলছবি## নদীর নাম চিত্রা। নদীর ঘাটের ঠিক বাঁ দিকে একটা বুড়ো বটগাছ আছে। সেই গাছের নিচে মফিজ মিয়ার চায়ের দোকান। মফিজ মিয়ার চায়ের একটা বিশেষত্ব আছে, সে চায়ে কখনো কনডেন্সড মিল্ক দেয় না। খাঁটি গরুর দুধ জ্বাল দিয়ে লাল করে, সেই দুধে চিনি আর কড়া লিকার দিয়ে যে চা বানায়, তার স্বাদ অমৃত। তানভীর আর রিনি গত দুই বছর ধরে এই ঘাটে বসে চা খাচ্ছে। তারা দুজনেই স্থানীয় একটা কলেজের শিক্ষক। তানভীর রসায়নের, রিনি বাংলার। কলেজের ক্লাস শেষ করে প্রতিদিন বিকেলে তারা এখানে আসে। এটা এখন তাদের এক অদ্ভুত অলিখিত নিয়ম। কোনোদিন যদি রিনির আসতে দেরি হয়, তানভীর নদীর দিকে তাকিয়ে একা একা ছটফট করে। আবার কোনোদিন তানভীর কলেজের কাজে আটকে গেলে রিনি মফিজ মিয়ার বেঞ্চিতে বসে উদাস হয়ে শাড়ির আঁচল আঙুলে জড়ায়। আজ আকাশটা একটু মেঘলা। নদীর পানি কেমন কালো মতন দেখাচ্ছে। মফিজ মিয়া দুই কাপ ধোঁয়া ওঠা চা দিয়ে গেল। মাটির কাপ। তানভীর কাপে চুমুক দিয়ে বলল, "আজকের চা-টা অন্যদিনের চেয়ে একটু বেশি ভালো হয়েছে, রিনি।" রিনি চায়ের কাপে ফুঁ দিয়ে বলল, "আ...

বাদশাহ হারুনুর রশীদ এবং বাহলূল পাগলের ঘটনা

বাদশাহ হারুনুর রশীদ এবং বাহলূল পাগলের ঘটনা বাদশাহ হারুনুর রশীদ এর শাসন আমলে বাহলুল নামে এক পাগল ছিল। যে অধিকাংশ সময় কবরস্থানে কাটাতো। কবরস্থানে থাকা অবস্থায় একদিন বাদশাহ হারুনুর রশীদ তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। বাদশাহ তাকে ডাক দিলেনঃ বাহলুল ! ওহে পাগল ! তোমার কি আর জ্ঞান ফিরবে না ? বাহলুল বাদশাহর এ কথা শুনে নাচতে নাচতে গাছে উপরে মগডালে চড়লেন এবং সেখান থেকে ডাক দিল- হারুন ! ওই পাগল ! তোর কি কোনদিন জ্ঞান ফিরবেনা ? বাদশাহ হারুনুর রশীদ গাছের নিচে এসে বাহলুলকে বললেন, আমি পাগল নাকি তুমি, যে সারা দিন কবরস্থানে বসে থাকে? বাহলুল বলল, আমিই বুদ্ধিমান। বাদশাহ জানতে চাইলো, কীভাবে? বাহলুল রাজপ্রাসাদের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বললেন, আমি জানি এই রঙ্গীলা দালান ক্ষণিকের আবাসস্থল, এবং এটি (কবরস্থান) স্থায়ীনিবাস; এজন্য আমি মরার পূর্বেই এখানে বসবাস শুরু করেছি। অথচ তুই গ্রহণ করেছিস ঐ রঙ্গীন শালাকে আর এই স্থায়ী নিবাসকে (কবর) এড়িয়ে চলছিস। রাজপ্রসাদ থেকে এখানে আসাকে অপছন্দ করছিস যদিও তুই জানিস এটাই তোর শেষ গন্তব্য। এবার বল, আমাদের মধ্যে কে পাগল ? বাহলুলের মুখে এ কথা শোনার পর বাদশাহর অন্তর কেঁপে উঠল, তিনি ...

The Neckless story in Bangla

দি নেকলেস (The Necklace); বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক "গাঁই দ্যা মুফাসাঁর" (Guy de Maupassant) বিখ্যাত গল্পের বাংলা অনুবাদ (La Parure)। সে ছিল সেইসব দুর্ভাগা অতীব সুন্দরী মেয়েদেরই একজন যে কিনা ভুল করে একজন কেরানি বাবার ঘরে জন্ম নিয়েছিল। তার বাবার ছিল না যৌতুক দেওয়ার সামর্থ্য, এমনকি তার বিয়ে নিয়ে ছিল না বাড়তি কোন আবেগ-উচ্ছ্বাস কিংবা প্রত্যাশা। তাদের ছিল না ধনী ও সমভ্রান্ত কোন পরিবারের সাথে জানাশুনা ও খাতির। এজন্য সেসব পরিবারের পুরুষের সাথে তার প্রেম কিংবা বিয়ের কোন সম্ভাবনাও ছিল না। অতএব, ফলাপল স্বরুপ যা হবার তাই ঘটল; বিয়ে হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সামান্য কেরানির সাথে। বিয়ের পরও তার পোষাক-পরিচ্ছদ খুব সাদামাটা ছিল; কেননা একজন ছাপোষা কেরানির বউ হিসাবে এরচেয়ে ভাল পোষাক পরার সামর্থ্য তার ছিল না। কিন্তু উচ্চভিলাসী মানসিকতার জন্য ভেতরে ভেতরে সে ছিল ভীষণ অসুখী; বিষয়টি অনেকটা এরকম- "যেন কোন স্বর্গের দেবী পথ ভুলে পৃথিবীতে এসে পড়েছে।" এমন একটি পরিবারে তার জন্ম হয়েছে যেখানে রূপ-লাবণ্য, সৌন্দর্য-কমণীয়তার জন্য না আছে কদর, না আছে মর্যাদা। শুধুমাত্র সন্তান জন্ম দেওয়া, তাদের লালন প...

একটি মর্মান্তিক বিমান দূর্ঘটনা

বিমানটি সফলভাবে অবতরণ করেছিল, কিন্তু ভেতরে থাকা ৩০১ জনের একজনও বাঁচেনি। ✈️ এটি বিমান চালনার ইতিহাসের অন্যতম এক মর্মান্তিক ও শিক্ষণীয় ঘটনা। দিনটি ছিল ১৯৮০ সালের ১৯ আগস্ট। 🗓️ সৌদিয়া ফ্লাইট ১৬৩ (Saudia Flight 163) রিয়াদ থেকে জেদ্দার উদ্দেশে ৩০১ জন আরোহী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। 🚨উড্ডয়নের মাত্র কয়েক মিনিট পরেই বিমানের কার্গো হোল্ডে ধোঁয়া শনাক্ত হয়। পাইলটরা দ্রুত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিমানটিকে সফলভাবে রিয়াদ বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনেন। অবতরণটি ছিল নিখুঁত এবং নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু এরপর যা ঘটেছিল তা ছিল কল্পনাতীত।  🛑বিমানটি রানওয়েতে থামার পরেও জরুরি দরজাগুলো খোলা হয়নি। পাইলটরা ইঞ্জিন বন্ধ করতে এবং বিমানটি থামাতে বেশ কয়েক মিনিট সময় নেন। ⏳ উদ্ধারকারী দল বাইরে প্রস্তুত থাকলেও, ভেতর থেকে দরজা খোলার কোনো নির্দেশ আসেনি। ততক্ষণে কার্গোর আগুন থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়া পুরো কেবিনে ছড়িয়ে পড়েছিল। অবতরণের প্রায় ২৩ মিনিট পর যখন উদ্ধারকারীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে, তখন তারা এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পায়। বিমানের ৩০১ জন যাত্রীর সবাই নিজ নিজ আসনে মৃত। কারো শরীরে পোড়ার চিহ্ন ছিল না; প্রত্যেকের মৃত্যু হয়েছিল ধো...

আইনোস্টাইনের মজার কাহিনি

❣️বিখ্যাত লোকদের মজার কাহিনী❣️ মেয়ের বিয়ে। সবাই চার্চে যাচ্ছেন। পথে আইনস্টাইন মেয়েকে বললেন, "তুমি আগে যাও, আমি ল্যাব থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে আসছি।"  বিয়ে হয়ে গেল। মেয়ে হানিমুনেও গেল। ৭ দিন পর ফিরে এসে মাকে জিজ্ঞেস করল, "বাবা কোথায়?"  মা বললেন, "ওই যে, বলেছিল ১০ মিনিটে ফিরবে… আর ফেরেনি!"  মেয়ে দৌঁড়ে গেল বাবার ল্যাবে। দেখে বাবা তখনো গবেষণায় মগ্ন। ডেকে বলল, "বাবা! এখনো এসোনি?" আইনস্টাইন বললেন, "তুমি চার্চে যাও, আমি ১০ মিনিটেই আসছি!" 😅  এমনই গভীর ছিল তাঁর ধ্যান আর কাজের প্রতি একাগ্রতা।  🔍 ১৯৩৫ সালে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে একবার তাঁকে প্রশ্ন করা হয়: “গবেষণার জন্য কী কী লাগে?” আইনস্টাইন হেসে বললেন – "একটা ডেস্ক, কিছু কাগজ, একটা পেনসিল… আর একটা বড় ডাস্টবিন! যাতে সব ভুলভরা কাগজ ফেলতে পারি!"  👑 একবার বেলজিয়ামের রানি তাঁকে রাজপ্রাসাদে দাওয়াত দিলেন। স্টেশনে গাড়ির বহর গেল তাঁকে আনতে… কিন্তু কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না বিজ্ঞানীকে।  কিছুক্ষণ পর দেখা গেল— সাদামাটা পোশাকে বেহালা বাজাতে বাজাতে রাজপ্রাসাদে হাজির!  রানি বিস্মিত! বললেন, "গা...

Gulivers travel summery

Gulliver’s Travels by Jonathan Swift  গালিভারের ট্রাভেলস (Gulliver’s Travels) কাহিনী : লেখক: জোনাথন সুইফ্ট (Jonathan Swift) প্রকাশকাল: ১৭২৬ **বইটি মোট চারটি অংশে বিভক্ত, এবং প্রতিটি অংশে গালিভারের এক একটি ভিন্ন দেশে ভ্রমণের বর্ণনা আছে। এই কাহিনীগুলোর মাধ্যমে লেখক মানুষের অহংকার, রাজনীতি, সমাজব্যবস্থা এবং জ্ঞানগরিমাকে ব্যঙ্গ করেছেন। প্রথম ভাগ: লিলিপুট দেশে ভ্রমণ (Voyage to Lilliput) গালিভার একটি জাহাজের চিকিৎসক ছিলেন। একসময় ঝড়ের কবলে পড়ে জাহাজ ডুবে যায় এবং তিনি সাঁতরে একটি অজানা দ্বীপে পৌঁছান। সেখানে তিনি আবিষ্কার করেন, দ্বীপটি "লিলিপুট" নামে পরিচিত এবং সেখানকার সব মানুষ মাত্র ছয় ইঞ্চি লম্বা। এই দেশে গালিভার যা দেখেন: ছোট ছোট মানুষ গালিভারকে প্রথমে বন্দি করে। পরে তার দানবীয় আকার দেখে ভয় পেলেও, ধীরে ধীরে তাকে বিশ্বাস করে ও সাহায্য নেয়। রাজনীতি, যুদ্ধ, ধর্ম এবং আদালতের নানা ব্যঙ্গাত্মক দিক তিনি দেখেন। লিলিপুট এবং তাদের শত্রু দেশ ব্লেফাস্কুর মধ্যে ডিম ফাটানো নিয়ে যুদ্ধ লেগে যায়। শেষ পর্যন্ত গালিভারকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তিনি পালিয়ে ব্লেফাস্...

কে শিশ দিলো?

একজন অধ্যাপক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছিলেন। ক্লাস শুরু হতেই এক ছাত্র শিস দিয়ে বসল। অধ্যাপক থেমে গিয়ে বললেন: — "কে শিস দিল?" কেউ কোনো উত্তর দিল না। তিনি আবার পাঠ দেওয়া শুরু করলেন। কিছুক্ষণ পর সেই ছাত্র আবার শিস দিল। অধ্যাপক আবার থেমে জিজ্ঞেস করলেন: — "কে শিস দিচ্ছে?" তবুও কেউ উত্তর দিল না। তিনি আবার ক্লাস শুরু করলেন। কিন্তু এবার যখন তৃতীয়বারের মতো শিস এল, তিনি কলম বন্ধ করলেন এবং বই গুটিয়ে বললেন: — "আজকের ক্লাস এখানেই শেষ। তবে আমি তোমাদের একটা গল্প শোনাব।" ক্লাসে নেমে এলো নিস্তব্ধতা, সবাই মনোযোগ দিল। অধ্যাপক বললেন: "এক রাতে ঘুম আসছিল না, অস্থির হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গাড়ি চালিয়ে কোথাও যাচ্ছিলাম। কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য ছিল না। হঠাৎ দেখি এক বৃদ্ধা মহিলা, হাতে ভারী বোঝা নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 'মা, কিছু সাহায্য লাগবে কি?' তিনি খুশি হলেন, গাড়িতে উঠলেন। চলতে চলতে বুঝলাম, তিনি আমাকে ভালোভাবেই চেনেন। তিনি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন: — ‘ডক্টর সাহেব, আমার একটা অবৈধ সন্তান আছে, সে আপনার ইউনিভার্সিটিতেই পড়ে। আমি চাই...

৩ খালি বস্তার গল্প

একটি শিক্ষণীয় গল্প এক মিনিট সময় নিয়ে হলেও সবাই পড়বেন উপকৃত হবেন!! একবার এক রাজা তার তিন মন্ত্রীকে ডেকে বললেন,এই নাও তোমাদের একটা করে খালি বস্তা দিলাম। তোমাদের কাজ হবে বনে গিয়ে বিভিন্ন ফল কুড়িয়ে এই বস্তা ভরে নিয়ে আসবে, দেখি কে কত তাড়াতাড়ি বস্তা পূর্ণ করে নিয়ে আসতে পার। তিন জন চলে গেল জঙ্গলে। 🔶১ম মন্ত্রী চিন্তা করলো, রাজা বলেছেন তাই ভালো ভালো ফল কুড়িয়ে বস্তা পূর্ণ করি এবং সেই মত জঙ্গলের ভালো ফল কুড়িয়ে বস্তা ভরে ফিরে আসল। 🔶২য় মন্ত্রী চিন্তা করলো, রাজা তো সব ফল দেখবেন না তাই হাবিজাবি পচা ফল দিয়ে সে নীচের দিকে পূর্ণ করে, উপরের দিকে শুধু কিছু ভালো ফল দিয়ে বস্তা পূর্ণ করলো এবং ফিরে আসল। 🔶৩য় মন্ত্রী চিন্তা করলো, রাজার এত সময় কোথায় বস্তা খুলে খুলে দেখবে, সে শুধু দেখবে বস্তা পূর্ণ হয়েছে কিনা। জঙ্গলে মরা পাতা, ঘাস,কাঠ দিয়ে বস্তা পূর্ণ করে নিয়ে এলো। তিন মন্ত্রী রাজার দরবারে হাজির, রাজা সবার বস্তা পূর্ণ দেখে খুশী হলেন।তিনি বস্তাগুলো খুলেও দেখলেন না।৩য় মন্ত্রী নিজের বুদ্ধির কথা চিন্তা করে নিজেকে বেশ বুদ্ধিমান মনে করতে লাগলো। রাজা একটু সময় নিয়ে তার মসনদে বসলেন এবং ঘোষণা করলেন, এই তিন মন্ত্রীদ...

দুষ্টু বাঘ এর গল্প

দুষ্ট বাঘ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী  রাজার বাড়ির সিংহ-দরজার পাশে, লোহার খাঁচায় একটা মস্ত বাঘ ছিল। রাজার বাড়ির সামনে দিয়ে যত লোক যাওয়া-আসা করত, বাঘ হাত জোড় করে তাদের সকলকেই বলত, 'একটিবার খাঁচার দরজাটা খুলে দাও না দাদা।' শুনে তারা বলত, 'তা বইকি। দরজাটা খুলে দি, আর তুমি আমাদের ঘাড় ভাঙো।' এর মধ্যে রাজার বাড়িতে খুব নিমন্ত্রণের ধুম লেগেছে। বড়-বড় পণ্ডিত মশাইয়েরা দলে-দলে নিমন্ত্রণ খেতে আসছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ঠাকুর দেখতে ভারি ভালো মানুষের মতো ছিলেন। বাঘ এই ঠাকুরমশাইকে বারবার প্রণাম করতে লাগল। তা দেখে ঠাকুরমশাই বললেন, 'আহা, বাঘটি তো বড় লক্ষ্মী। তুমি কি চাও বাপু।' বাঘ হাত জোড় কর বললে, 'আজ্ঞে, একটি বার যদি এই খাঁচার দরজাটা খুলে দেন। আপনার দুটি পায়ে পড়ি।' ঠাকুরমশাই কিনা বড্ড ভালোমানুষ ছিলেন, তাই তিনি বাঘের কথায় তাড়াতাড়ি খাঁচার দরজা খুলে দিলেন। তখন হতভাগা বাঘ হাসতে-হাসতে বাইরে এসেই বললে, 'ঠাকুর, তোমাকে তো খাব।' আর কেউ হলে হয়তো ছুটে পালাত। কিন্তু এই ঠাকুরটি ছুটতে জানতেন না। তিনি ভারি ব্যস্ত হয়ে বললেন, 'এমন কথা তো কখনো শুনিনি। আমি তোমার এত উপকার করলাম আর তু...

ট্রয় যুদ্ধের কাহিনী

 ট্রয় যুদ্ধের কাহিনী Greek mythology’র একটি অতি জনপ্রিয় আখ্যান। Wolfgang Petersen পরিচালিত ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘Troy’ মুভিটি আমরা প্রায় সকলেই দেখেছি, যেখানে ট্রয়বাসী এবং গ্রীকসেনাদের মাঝে সংঘটিত দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী ট্রয় যুদ্ধের খণ্ডচিত্র তুলে ধরা হয়। গ্রিক কবি Homer এর ‘Iliad’ মহাকাব্য অবলম্বনে মুভিটি নির্মিত হয়। কিন্তু হোমারের ‘ইলিয়াড’ এই যুদ্ধের মাত্র কয়েক দিনের ঘটনা নিয়ে রচিত। ট্রয় যুদ্ধের সূত্রপাত হয় Sparta’র রানী হেলেনের অপহরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু মূল ঘটনার সূত্রপাত আরও পেছনে। আসুন সংক্ষেপে জেনে নিই সেই চমকপ্রদ কাহিনী। ইলিয়াডের মহাকাব্যে তিনি সব কিছু চিত্রিত করেন নি ঠিকই, কিন্তু অন্য গ্রীক কবিরা (যেমন- আপোলোডোরাস, ইস্কাইলাস, ইউরিপিডিস) তাঁদের কালজয়ী বিভিন্ন সাহিত্যকর্মে ট্রয় যুদ্ধের আগের ও পরের কাহিনীর বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে লিখেছেন। সেইসব কাহিনীসূত্র থেকে যতটুকু জানা যায়, দেবতাদের আবাস অলিম্পাসে তিন রূপসী দেবীর মধ্যকার এক বিবাদ থেকেই এই কাহিনীর সূত্রপাত। বিয়ে হবে রাজা পিলিউস এবং জলদেবী থেটিসের। সেই বিয়ের ভোজসভায় কলহের দেবী এরিস বাদে নিমন্ত্রন পেলেন অন্য সকল দেব-দেবী।...

Leo Tolstoy নিজেই একটা পৃথিবী

আপনার কি মনে পড়ে লে তলস্তয়ের সেই "সাড়ে তিন হাত জমি" গল্পটির কথা? একটি গল্প যেন হাজারটি উপন্যাসের চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। নিশ্চয় মাধ্যমিকে সহপাঠ কিংবা আনন্দপাঠে গল্পটি আপনি পড়েছেন। যদি না পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই পড়বেন! তলস্তয়ের মূল জীবনে প্রবেশের পূর্বে সংক্ষেপে গল্পটি বলার লোভ আমি সামলাতে পারছিনা। এটা আমার কৈশোরের মধুর স্মৃতিগুলোর একটি। রাশিয়ার এক দরিদ্র কিশোর পাখোম যার প্রচন্ড আকাঙ্ক্ষা ধনী হওয়ার। একদিন সে শয়তানের কাছে জানতে পারে ভলগা নদীর পাড়ে খুব কমদামে জমি কিনতে পারা যায়। ফলে ১০০ একর জমি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তার মনে জেঁকে বসলো। ফলে ঐ গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য হয়ে জমির মালিক হলো সে। এবার শয়তান তাকে জানালো পাশের দেশে আরো সহজে জমি পাওয়া যায়। যার মূল্য দিনপ্রতি ১০০ রুবল। অর্থাৎ একদিনে সে দৌড়ে যতটুকু জমি অতিক্রম করবে ততটুকু তার দখলে চলে আসবে। পাখোম একদিন প্রাণপণ দিয়ে দৌড়ালো, সে এত বেশি দৌড়ালো যে তার শরীর ভেঙে পড়লো। কিন্তু অধিক জমির লোভে সে আরো দৌড়ালো। সে অনেক জমি অধিকার করলো বটে কিন্তু সেসব তার ভাগ্যে জুটলোনা। সূর্য্যের সাথে তার জীবনসূর্য‌্যও ডুবে গেলো। অবশেষে সে সাড়ে তিন হাত জমি তথা...

জেলে আর পর্জটক এর কাহিনী

মেক্সিকো ভ্রমণে গেছেন এক পর্যটক। ঘুরতে ঘুরতে তিনি গেলেন সমুদ্রের পাড়ে। সেখানে জেলেদের মাছ ধরা দেখে তিনি দারুণ মজা পেলেন। তাদের কাছে গিয়ে পর্যটক বললেন, "আচ্ছা, প্রতিদিন মাছ ধরতে আপনাদের কত সময় লাগে?” “বেশিক্ষণ না!” জেলেদের ঝটপট জবাব। “তাহলে আপনারা বেশি সময় ধরে আরো বেশি মাছ ধরেন না কেন?” পর্যটক প্রশ্ন করেন। "আমরা যে মাছে ধরি তাতে আমাদের প্রয়োজন মিটে যায়।" জেলেরা জাল টেনে তুলতে তুলতে বলেন। “তাহলে মাছ ধরার পর বাকি সময়টা আপনারা কী করেন?” পর্যটক জানতে চান। জেলেরা উত্তর দেয়, “আমরা ঘুমাই, বাচ্চাদের সাথে খেলা করি, স্ত্রীর সাথে খাই, সন্ধ্যায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেই, মজা করি, হাসি, গলা ছেড়ে গান গাই, জীবনকে উপভোগ করি।" পর্যটক তাদেরকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “আমি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছি। আমি আপনাদেরকে বুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করতে পারি। আপনারা আরও বেশি সময় নিয়ে মাছ ধরবেন, বাড়তি মাছগুলো বিক্রি করে মাছ ধরার বড় নৌকা কিনবেন।" “তারপর?” জেলেদের প্রশ্ন। “আপনারা বড় নৌকার সাহায্যে আগের চেয়ে অনেক বেশি মাছ ধরবেন, বেশি আয় করবেন। সেটা দিয়ে আরও বড় কয়েকটা নৌকা কিনবেন। একসময় ম...

Asia You like it’s বাংলা

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য।  &&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&& As you like it - William Shakespeare - Bangla Translation - অ্যাজ ইউ লাইক ইট -উইলিয়াম শেক্সপিয়ার - বাংলা অনুবাদ পর্ব-১ ------------------------------ ইউরোপের দুটো দেশ, ফ্রান্স আর বেলজিয়ামের মাঝখান দিয়ে বহুদূর পর্যস্ত চলে গেছে আর্ডেনের গহন অরণ্য। শুধু ওই দুটি দেশ নয়, ইউরোপের আরও অনেক দেশের সীমান্ত ছুঁয়ে গেছে সেই বন। এই বনে পাহাড়, ঝরনা, নদীর পাশাপাশি রয়েছে গোরু, ভেড়া চরাবার বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ। একদিকে যেমন বাঘ, সিংহ, নেকড়ে প্রভৃতি হিংস্র জন্তুরা শিকারের খোঁজে ঘুরে বেড়ায়, তেমনি অন্য দিকে ফুল-পাতায় ছাওয়া গাছের ডালে বসে কোকিল আর জংলি ময়নারা রচনা করে এক সুন্দর পরিবেশ। বনের একধারে স্ত্রী-পুত্র-পরিবার আর পোষা জন্তুদের সাথে বাস করে কিছু মেষপালক। ফ্রান্সের একটা ছোটো রাজ্য রয়েছে ঠিক এই আর্ডেন জঙ্গলের লাগোয়া। সে সময় ইউরোপের অনেক ছোটো রাজ্যের রাজারা ডিউক উপাধি নিয়ে রাজ্য শাসন করতেন। এ গল্প যে রাজ্যকে নিয়ে লেখা হয়েছে তার প্রাক্তন শাসক...

অভাগা কবি কাজী নজরুল ইসলাম

সবচেয়ে বড় অভাগা হলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তার চার বছরের শিশু বুলবুল যে রাতে মা/ রা গিয়েছিল, সে রাতে তার পকেটে একটা কানাকড়িও ছিল না।  অথচ কাফন,দাফন,গাড়িতে করে দেহ নেওয়া ও গোরস্থানে জমি কেনার জন্য দরকার ১৫০ টাকা, সে সময়ের ১৫০ টাকা মানে অনেক টাকা। এত টাকা কোথায় পাবে। বিভিন্ন লাইব্রেরীতে লোক পাঠানো হল। না, টাকার তেমন ব্যবস্থা হয়নি। শুধুমাত্র ডি. এম লাইব্রেরি দিয়েছিল ৩৫ টাকা। আরো অনেক টাকা বাকি। টাকা আবশ্যক। ঘরে দেহ রেখে কবি গেলেন এক প্রকাশকের কাছে। প্রকাশক শর্ত দিল- এই মুহূর্তে কবিতা লিখে দিতে হবে। তারপর টাকা......💔 কবি মনের নীরব কান্না, যাতনা লিখে দিলেন কবিতায়..... "ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হয়ে আমার গানের বুলবুলি। করুণ চোখে চেয়ে আছে সাঝের ঝরা ফুলগুলি।। ফুল ফুটিয়ে ভোর বেলা কে গান গেয়ে, নীরব হ’ল কোন নিষাদের বান খেয়ে, বনের কোলে বিলাপ করে সন্ধ্যারাণী চুল খুলি।। কাল হতে আর ফুটবে না হায়, লতার বুকে মঞ্জরী উঠছে পাতায় পাতায় কাহার করুণ নিশাস মর্মরী। গানের পাখি গেছে উড়ে শূণ্য নীড়, কন্ঠে আমার নেই যে আগের কথার ভিড়, আলেয়ার এই আলোতে আর আসবে না কেউ কুল ভুলি।। একজন সন...

একজন মাস্টার মশাইয়ের সাইকেলের কাহিনি

সুপ্রিয় বাবু প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক।। বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব পাঁচ  কিলোমিটার।।একদম নির্জন রাস্তার উপর দিয়ে যেতে হয়, তার স্কুলে।।বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার রাস্তায়,, কোনোরকম যানবাহন ছিলো না।। সুপ্রিয়  বাবু ভালো  মানুষ,, প্রায় প্রতিদিন ওনাকে কেউ না কেউ,, বাইক অথবা সাইকেলে লিফট দিয়ে দিতেন।। ভাগ্য খারাপ হলে,, সেদিন দুই-পায়ের উপর ভরসা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।। "এত নির্জন জায়গায় কেনো যে সরকার স্কুল খোলে ?" রোজ সকালে স্কুলে বের হওয়ার আগে,সুপ্রিয়  বাবু এটাই মনে করেন।। একটু একটু করে পরিশ্রমের টাকা জমিয়ে ,, সুপ্রিয়  বাবু একটা বেটারী সাইকেল  কেনেন।।  সাইকেল কেনার পরেই তিনি শপথ নিলেন,, প্রতিদিন কাউকে না কাউকে লিফট দেবেন।। কাউকে মানা করবেন না।। কারণ,, তিনি জানতেন,, যখন কেউ লিফট দিতে মানা করে,, তখন ভীষণ লজ্জায় পড়ে যেতে হয়।। সুপ্রিয় বাবু যখনই স্কুলে যেতেন,, কাউকে না কাউকে পিছনে বসিয়ে নিতেন।। ফেরার সময় ও যে কোনো মানুষকে লিফট দিতেন।। একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে,, একজন অচেনা ব্যাক্তি হাত দেখান।। সুপ্রিয়  বাবু সাইকেল থামিয়ে,, তাকে পিছনে বসিয়ে নেন।। কিছুদুর যাওয়ার ...