Skip to main content

Posts

Showing posts with the label Poem

সপ্নীল চক্রবর্তীর লেখা কয়েকটি কবিতা

স্বপ্নীল চক্রবর্ত্তীর কয়েকটি কবিতা আমার শোকসভায় সভাপতিত্ব করুক কোনো বিপত্নীক একলা চড়ুই; চড়ুই এর চাইতে আর বেশী কেইবা জানে,ঘর ভেঙে যাওয়ার দুঃখ। আমার শোকশভায় দীর্ঘশ্বাস ফেলুক শতাব্দীর সবচাইতে প্রাচীণ অশ্বথ, সেই দীর্ঘশ্বাস ছড়িয়ে যাক আমার প্রেমিকার উঠোনে,অন্তত একটা দ্বিপ্রহর তার মন খারাপ থাকুক৷ আমার শোকসভায় সমাপনী বক্তব্য পেশ করতে দেওয়া হোক আমার সবচাইতে কাছের শত্রুটিকে, অকপটে সে বলে ফেলুক আমি কতটা উন্মাদ ছিলাম। আমার শোকসভায় কান্নার আওয়াজ তুলুক আমার এলাকার বৃদ্ধ কুকুর টা, ওর কান্নায় অন্তত কোনো ভান থাকবেনা। আমার শোকসভা কোনো ডাস্টবিনের পাশে হোক, ছড়িয়ে যাক দুর্গন্ধ,সভ্য মানুষেরা অজুহাত দেখিয়ে চলে যাক সভা শেষ হওয়ার আগেই। আমার শোকসভায় বৃষ্টি হোক; বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে সভা পন্ড হয়ে গেলেও এককোণায় বসে থাকুক একটা শহুরে কাক; যদি এক টুকরো মাংস অন্তত জোটে। শোকসভা ©স্বপ্নীল চক্রবর্ত্তী এই শহরে আমি অভাব বলতে যা বুঝি আমি তাদের নাম দিয়েছি ভালোবাসা; এই শহরে আমি ঘৃণা বলতে যা বুঝি আমি তাদের নাম রেখেছি সম্পত্তি,মালিকানা। এই শহরে যা কিছু অভ্যেস,যা কিছু ভাবায় খুব; তাদের আমি স্মৃতি বলি। এই শহরে যারা বুঝ...

O me o life

ছাত্রী কে এই কবিতা পড়াচ্ছিলাম। এইটা নবম দশম শ্রেণীর ইংলিশ ফর টুডে বইয়ের ইউনিট ১ এর লেসন ৩ এ আছে। যদিও নিজের ছাত্রবস্থায় এই বইখানা আমি কখনো খুলেও দেখি নি, তবে সেই উপদেশ যদি আমি ছাত্রছাত্রীদের দিতে যাই তাহলে দিন দুয়েকের মাঝেই আমারে গার্ডিয়ান লাল সালাম সহিত পত্রপাঠ বিদায় জানিয়ে দিবেন। যাই হোক, ক্রিঞ্জ সারক্যাজম বাদ দিয়ে আসল কথায় আসি।  এই কবিতার আসলে সামারি কি? এই কবিতাটি মানুষের অস্তিত্বের সংকট এবং জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা। কবিতার প্রথম অংশে কবি নিজের জীবন এবং চারপাশের জগত নিয়ে গভীর বিষাদ প্রকাশ করেছেন । বিশেষত ঢাকার মতো যান্ত্রিক কোনো শহরের কোনো এক কোনায় যন্ত্রের মতো ছুটে চলা মানুষের কথা বলেছেন তিনি। নিজেকেও তিনি সেই কাতারেই ফেলেছেন। আবার মানুষ হিসেবে নিজের দোষের কথাও বলেছেন যেমন বিশ্বাস হীনতা। মানুষের জীবন এমনই। জন্মায়, কামলা খাটে, ভাত খায়, মরে যায়! তাহলে জীবনের সার্থকতা কোথায়? উদ্দেশ্য কী জীবনের? তবে কবিতায় কিছু উত্তর ও দেয়া আছে। আপনি যে বেঁচে আছেন  আর আপনার যে নিজের পরিচয় আছে এটাই কি অনেক বড় কিছু না? হ্যাঁ নিজেকে মোটিভেট করতে গেলে মাঝে মাঝে এসব কথায় বিশ্বা...

কবিতা — "কাজলা দিদি"___যতীন্দ্রমোহন বাগচী

কবিতা — "কাজলা  দিদি" ___যতীন্দ্রমোহন বাগচী বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই? পুকুর ধারে, লেবুর তলে  থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে, ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই; মাগো, আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই? সেদিন হতে দিদকে আর কেনই-বা না ডাকো, দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো? খাবার খেতে আসি যখন দিদি বলে ডাকি, তখন ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো, আমি ডাকি, - তুমি কেন চুপটি করে থাকো? বল মা, দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে? কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল-বিয়ে হবে! দিদির মতন ফাঁকি দিয়ে আমিও যদি লুকোই গিয়ে- তুমি তখন একলা ঘরে কেমন করে রবে? আমিও নাই দিদিও নাই কেমন মজা হবে! ভুঁইচাঁপাতে ভরে গেছে শিউলি গাছের তল, মাড়াস নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল; ডালিম গাছের ডালের ফাঁকে বুলবুলিটি লুকিয়ে থাকে, দিস না তারে উড়িয়ে মা গো, ছিঁড়তে গিয়ে ফল; দিদি এসে শুনবে যখন, বলবে কী মা বল! বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই এমন সময়, মাগো, আমার কাজলা দিদি কই? বেড়ার ধারে, পুকুর পাড়ে ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোঁপে-ঝাড়ে; নেবুর গন্ধে ঘুম আসে না- তাইতো জেগে রই; রাত হলো যে, মাগো, আমার কাজলা দিদি...

সত্যি বলতে —আমি তোমার প্রেমে পড়িনি।

সত্যি বলতে — আমি তোমার প্রেমে পড়িনি। তুমি নিখুঁত পরিপাটি করে যে শাড়িটা পরো, আমি প্রেমে পড়েছি সেই শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকা তোমার কোমলতার। যদি কখনো জানতে চাও, আমি কীসে সবচেয়ে বেশি হেরে যাই? তবে আমি বলবো,  তোমার ওই গাঢ় কাজল চোখে! আমি প্রেমে পড়েছি তোমার কাজল চোখের। আমি তোমার প্রেমে পড়িনি, প্রেমে পড়েছি তোমার কানের দুলের—যেগুলো নড়লেই মনে হয়, আমার হৃদয়ের ভেতর ছোট্ট একটা ঝংকার বেজে ওঠে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কপালের ঠিক মাঝখানে যে ছোট্ট কালো টিপটা তুমি সযত্নে বসাও, আমি প্রেমে পড়েছি সেই টিপটার। জানো তো? ওটাকে আমার ভীষণ হিংসে হয়—সে কত সহজেই তোমার কপালে চুমু এঁকে দেয়,অথচ আমি পারি না! আজ সত্যি বলছি, আমি মোটেও তোমার প্রেমে পড়িনি। আমি প্রেমে পড়েছি তোমার দু’ঠোঁটের—যে ঠোঁট দিয়ে তুমি আনমনে হাসো, শুধু আমাকে ভেবে। প্রেমে পড়েছি তোমার সেই নির্লিপ্ত কণ্ঠের— অভিমানে যে কণ্ঠ শুনে এক নিমেষে হৃদয় উন্মাদ হয়ে ওঠে। প্রেমে পড়েছি তোমার এলো চুলের, আর চুল বাঁধার সেই ছোট্ট ক্লিপটার। সে কত যত্নেই না তোমার চুলগুলো সামলে রাখে, অথচ আমি পারি না! এতকিছুর পরেও যদি মনে হয় আমি তোমার প্রেমে পড়েছি—তবে জেনে রেখো, হ্যাঁ,আমি স...

শরিফ ওসমান হাদীর ৩ টি কবিতা

ওসমান হাদির ০৩টি কবিতা: 🌱🍀🌱 কবিতা-১ "আমায় ছিঁড়ে খাও হে শকুন" হে সীমান্তের শকুন  এক্ষুনি ছিঁড়ে খাও আমাকে  হে আটলান্টিকের ঈগল  শিগগির খুবলে খাও আমাকে  হে বৈকাল হ্রদের বাজ  আঁচড়ে কামড়ে ছিন্নভিন্ন করো আমাকে। আমার রক্তরসে শুধু অসহায়ত্ব আর অভাব;  কাগজের কামলারা তারে আদর করে মুদ্রাস্ফীতি ডাকে। ঋণের চাপে নীল হয়ে যাচ্ছে আমার অণুচক্রিকা  সংসার চালাতে অন্তরে হয় ইন্টারনাল ব্লিডিং  কী আশ্চর্য, তবুও আমি মরছি না! ওদিকে দোজখের ভয়ে  আত্মহত্যা করবারও সাহস পাই না আমি! খোদাকে বললাম, আমি মরতে চাই তিনি বললেন, বেঁচে আছ কে বলল? সহস্রাব্দ উন্নয়নের সাক্ষী হিসেবে রাজা তোমাকে মমি করে রেখেছেন! বাজারে দীর্ঘশ্বাস ফেললে নাকি রাজ্যের ভীষণ বদনাম হয়  রাজারও মন খারাপ হয় খুব। কোতোয়ালরা ফরমান জারি করেছে আমাকে সারাক্ষণই হাসতে হবে! নইলে দেশি কুকুর ও বিদেশি মাগুরকে  একবেলা ভালোমন্দ খাওয়ানো হবে আমার মাংস দিয়ে  নিত্যদিন ব্রয়লারের ভুঁড়ি নাকি ওদের ভাল্লাগে না! অথবা আমাকে ভাগ দিয়ে বেচা হবে মানুষেরও তো মানুষ খাওয়ার সাধ হতে পারে, তাই না?  ভাগ্যিস তা বিদেশি সুপারশপে ...