Skip to main content

পঁয়ত্রিশের ধাক্কা পঞ্চাশে।বাদল সৈয়দ।

পঁয়ত্রিশের ধাক্কা পঞ্চাশে।
বাদল সৈয়দ।

'Fifty is not just age— it is an audit.'
'পঞ্চাশ শুধু বয়স নয়- আগে কী করেছেন তার হিসাবনিকাশও।'

আপনার কি পঁয়ত্রিশ চলছে?
তাহলে আপনাকে কিছু অভ্যাস রপ্ত করতে হবে—কিছু পাল্টাতে হবে। নইলে পঞ্চাশে গিয়ে বিশাল ধাক্কা খাবেন।

পঞ্চাশ হচ্ছে ভাঙচুরের বয়স। আস্তে আস্তে বয়স ঝেঁকে বসে, শরীর দুর্বল হয়, ব্যাধি ঘর বাঁধে। আর্থিক দুশ্চিন্তা প্রবল হয়, ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়ে।

এজন্যই অনেকে পঞ্চাশ পেরুলে বলেন—‘অন দ্য রং সাইড অব ফিফটি।’
তাই পঁয়ত্রিশ বছর থেকেই পঞ্চাশের ঝামেলা মোকাবেলার পরিকল্পনা করতে হবে।

অনেক কিছু করতে হবে—অনেক কিছু ছাড়তে হবে।

চলুন, দেখি সেগুলো কী?

ক) হেলথ ডিমান্ডস ইন্টারেস্ট।

আপনি যদি এখন থেকে শরীরের যত্ন না নেন—নিশ্চিত ধরে নেবেন পঞ্চাশে স্বাস্থ্য সুদ আদায় করবে। এ সুদ হচ্ছে চিকিৎসা খরচ। এমনিতেই পঞ্চাশ খুব ভঙ্গুর সময়। সে সময় শরীরে ভাঙচুর না চাইলে এখন শরীরের যত্ন নিন।

১) হালকা ব্যায়াম করুন।
২) নিয়মিত আধা ঘণ্টা হাঁটুন।
৩) পরিমিত খান।
৪) অস্বাস্থ্যকর খাবার বাদ দিন।
৫) পর্যাপ্ত ঘুমান।

খ) টেনশন অ্যান্ড ‘টেল অব টোল’।

পঁয়ত্রিশ বছর মানসিক চাপের সময়।
সংসার হয়েছে। ছেলেমেয়ে স্কুলে যাচ্ছে। বাবা-মাকে দেখতে হচ্ছে। হয়ত ভাইবোনের পড়ার খরচ চালাতে হচ্ছে।

খরচের পারদ বাড়ছে—কুলানো যাচ্ছে না।

পঁয়ত্রিশ থেকে কয়েক বছর খুব কঠিন সময়—এ সময়ের মানসিক চাপ পঞ্চাশে খাদের কিনারে নিয়ে যেতে পারে। পঞ্চাশকে বলা হয়—‘টেল অব টোল’—টোল আদায়ের গল্প। সেতু পেরুলে যেভাবে টোল নেয়, পঞ্চাশ সেভাবে টোল আদায় করে। পঁয়ত্রিশ থেকে উনপঞ্চাশ পর্যন্ত যত বেশি মানসিক চাপে থাকবেন, এ টোলের পরিমাণ তত বাড়বে।

এ চাপ আপনি এড়াতে পারবেন না—তবে কমাতে পারেন।

১) তালিকা করে খরচ করুন। তাহলে প্ল্যান করতে পারবেন।
২) কিছু দায়িত্ব শিফট করুন। স্ত্রী রাজি হলে তবে সংসার চালানোর খরচ তাঁর হাতে দিন। তাঁদের মতো সুন্দর করে সব ম্যানেজ করতে আর কেউ পারেন না।
৩) ছোট ভাই-বোনদেরও দায়িত্ব ভাগ করে দিন। যেমন—বাজার করা, ঘরদোর দেখে রাখা।
৪) রাগারাগি বাদ দিন।
৫) যে সিদ্ধান্ত আপনার দেওয়ার দরকার নেই, তা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না।

গ) মানি ম্যাটারস।

পঞ্চাশ মানে আস্তে আস্তে কর্মজীবন শেষ করার দিকে যাবেন—কর্মক্ষমতাও কমবে। কিন্তু খরচ বাড়বে। ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে, মেয়ের বিয়ে দিতে হবে, চিকিৎসা খরচ বাড়বে। 
এ সময় জমা টাকা দরকার হবে। তাই—
১) পঁয়ত্রিশ থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় শুরু করুন।
২) মিতব্যয়ী হোন। অপরিণামদর্শী খরচ করবেন না।
৩) নিরাপদ জায়গায় সঞ্চয় করুন। টাউট-বাটপার, ভুয়া কোম্পানি কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ফাঁদে পড়বেন না।
৪) লোভ করবেন না—তাতে আম-ছালা দুটোই যাবে।
৫) নিজে ভালোভাবে না বুঝলে শেয়ারবাজারে যাবেন না। ওটা অভিজ্ঞদের জন্য।
৬) পারতপক্ষে সঞ্চয়ে হাত দেবেন না।

ঘ) হার্ড ওয়ার্ক গিভস ডিভিডেন্ড।

এখন পরিশ্রম করার বয়স—যেটা পঞ্চাশে করতে পারবেন না। তাই এখন শরীরকে একটু কষ্ট দিয়ে হলেও—

১) রোজগারের জন্য বেশি পরিশ্রম করুন।
২) সম্ভব হলে নিয়মিত কাজের বাইরে অন্য কোনো কাজ করে আয় বাড়ান।
৩) পঞ্চাশে গিয়ে ঘরে বসে করতে পারবেন—এমন কাজ শিখুন। যেমন—প্রোগ্রামিং, ভিডিও এডিটিং, ভিডিওর স্ক্রিপ্ট লেখা- যে কাজ আপনার ভালো লাগে তাতেই দক্ষতা বাড়ান। 

পঞ্চাশের অপর দিকে যখন পৌঁছাবেন, তখন আজকের পরিশ্রম ও দক্ষতা অর্জন অকল্পনীয় ডিভিডেন্ড দেবে।

৫) রাইট ডিসিশন ইজ রিওয়ার্ডিং।

ভেবে-চিন্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। আজকের সিদ্ধান্ত পঞ্চাশে অনেক বড় প্রভাব ফেলবে। তাই—

১) তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেবেন না। সময় নিন।
২) রাগের মাথায় সিদ্ধান্ত নেবেন না।
৩) আবেগ নয়, নির্মোহ সিদ্ধান্ত নিন।

৬) ফ্রেন্ডস নট ফো।

শত্রু নয়—বন্ধু বেছে নিন।
যারা আপনাকে ভুল দিকে ধাবিত করে, ভুল সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহ দেয়—যারা উশৃঙ্খল, তারা আসলে বন্ধু নয়, শত্রু। এদের দ্বারা চালিত হলে পঞ্চাশের টালমাটাল সময়ে দেখবেন পায়ের নিচে মাটি নেই। তখন কিন্তু রিসেট বাটন কাজ করবে না।

৭) ইউ নিড সিস্টেম।

আপনার এখন দরকার সিস্টেম গড়ে তোলা।

শরীর—
আর্থিক ক্ষমতা—
সম্পর্ক—

এ তিনটিকে একটি সিস্টেমে ফেলুন। সে সিস্টেমের বাইরে যাবেন না—কাউকে এর ভেতর ঢুকতেও দেবেন না। তাহলে দেখবেন, পঞ্চাশের পর আপনার মনে হবে না যে আপনি রং সাইডে আছেন।

মনে রাখবেন, চাইলে পঞ্চাশের পরও তারুণ্যের আনন্দে থাকা যায়-শুধু দরকার প্রস্তুতি। 

ক্লাব ফিফটিতে আপনাকে অগ্রিম স্বাগতম।

পাদটীকা: পঞ্চাশের প্রস্তুতি আরো আগে থেকেও নেয়া যায়। আমি আমার মতে সর্বশেষ সীমারেখা পঁয়ত্রিশ ধরেছি-এরপর দেরি হয়ে যাবে।

ছবি: বয়স যখন পঞ্চাশ। সিলেটে  তরুণদের জন্য আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে।

#আসুনমায়াছড়াই 
#Badalsayad

Comments

Popular posts from this blog

Books poem analysis with bangla

Books poem in bangla and with analysis Verse-wise Bangla Translation: What worlds of wonder are our books! As one opens them and looks, New ideas and people rise In our fancies and our eyes. আমাদের বইগুলো কী আশ্চর্য এক জগৎ! যখনই কেউ তা খুলে দেখে, নতুন ভাবনা আর নতুন মানুষ জেগে ওঠে কল্পনায় ও চোখের সামনে। The room we sit in melts away, And we find ourselves at play With some one who, before the end, May become our chosen friend. আমরা যে ঘরে বসে আছি, তা যেন মিলিয়ে যায়, আর আমরা আবিষ্কার করি নিজেদের খেলায় মত্ত কাউকে সঙ্গে নিয়ে, যে হয়তো শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠবে। Or we sail along the page To some other land or age. Here's our body in the chair, But our mind is over there. অথবা আমরা পৃষ্ঠার ওপর দিয়ে ভাসতে থাকি অন্য কোনো দেশ বা কালের দিকে। আমাদের শরীরটা রয়েছে চেয়ারে, কিন্তু মন চলে গেছে দূরে অন্য কোথাও। Each book is a magic box Which with a touch a child unlocks. In between their outside covers Books hold all things for their lovers. প্রতিটি বই একেকটি জাদুর বাক্স, যা শিশুরা এক ...

🚀 ৫০টি দরকারি কিবোর্ড শর্টকাট (Windows)(বাংলা ব্যাখ্যাসহ)

🚀 ৫০টি দরকারি কিবোর্ড শর্টকাট (Windows) (বাংলা ব্যাখ্যাসহ) (অজানা কিন্তু খুবই কাজে লাগে) ⸻ ১. Ctrl + N → নতুন ফাইল বা ডকুমেন্ট খুলবে (Word, Notepad, Browser ইত্যাদিতে)। ২. Ctrl + Shift + T → আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্রাউজার ট্যাব পুনরায় খুলবে। ৩. Ctrl + Shift + Left/Right Arrow → একসাথে পুরো শব্দ নির্বাচন করা যাবে। ৪. Alt + F4 → অ্যাপ বা উইন্ডো বন্ধ হবে। ৫. Ctrl + P → প্রিন্ট ডায়ালগ বক্স খুলবে (প্রিন্ট করার জন্য)। ⸻ ৬. Ctrl + A → সব ফাইল বা টেক্সট সিলেক্ট হবে। ৭. Ctrl + C → কপি করা যাবে। ৮. Ctrl + V → পেস্ট করা যাবে। ৯. Ctrl + X → কাট করা যাবে। ১০. Ctrl + Z → সর্বশেষ কাজ Undo হবে। ⸻ ১১. Ctrl + Y → Undo করা কাজ Redo হবে। ১২. Windows Key + E → File Explorer খুলবে। ১৩. Windows Key + D → ডেস্কটপ দেখাবে (সব মিনিমাইজ হবে)। ১৪. Ctrl + Shift + Esc → সরাসরি Task Manager খুলবে। ১৫. Windows Key + L → কম্পিউটার লক হবে। ⸻ ১৬. Windows Key + S → সার্চ অপশন চালু হবে। ১৭. Windows Key + R → Run কমান্ড চালু হবে। ১৮. F5 → রিফ্রেশ করবে। ১৯. Alt + Enter → Properties খুলবে। ২০. Ctrl + T → ব্রাউজারে নতুন ট্যাব খু...

70 speaking rules(1~20)

Spoken Rule-1 Feel like – ইচ্ছা করা/আকাঙ্খা প্রকাশ করা প্রয়োগ ক্ষেত্র: ব্যক্তির কোন কিছুর “ইচ্ছা করলে” Feel like ব্যবহার হবে Structure: Subject + feel like + Verb (ing) + Extension. Example ✪ I feel like doing – আমার করতে ইচ্ছা করছে। ✪ I feel like eating – আমার খেতে ইচ্ছা করছে। ✪ I don’t ...