ছাত্রী কে এই কবিতা পড়াচ্ছিলাম। এইটা নবম দশম শ্রেণীর ইংলিশ ফর টুডে বইয়ের ইউনিট ১ এর লেসন ৩ এ আছে। যদিও নিজের ছাত্রবস্থায় এই বইখানা আমি কখনো খুলেও দেখি নি, তবে সেই উপদেশ যদি আমি ছাত্রছাত্রীদের দিতে যাই তাহলে দিন দুয়েকের মাঝেই আমারে গার্ডিয়ান লাল সালাম সহিত পত্রপাঠ বিদায় জানিয়ে দিবেন। যাই হোক, ক্রিঞ্জ সারক্যাজম বাদ দিয়ে আসল কথায় আসি।
এই কবিতার আসলে সামারি কি? এই কবিতাটি মানুষের অস্তিত্বের সংকট এবং জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা। কবিতার প্রথম অংশে কবি নিজের জীবন এবং চারপাশের জগত নিয়ে গভীর বিষাদ প্রকাশ করেছেন । বিশেষত ঢাকার মতো যান্ত্রিক কোনো শহরের কোনো এক কোনায় যন্ত্রের মতো ছুটে চলা মানুষের কথা বলেছেন তিনি। নিজেকেও তিনি সেই কাতারেই ফেলেছেন। আবার মানুষ হিসেবে নিজের দোষের কথাও বলেছেন যেমন বিশ্বাস হীনতা। মানুষের জীবন এমনই। জন্মায়, কামলা খাটে, ভাত খায়, মরে যায়! তাহলে জীবনের সার্থকতা কোথায়? উদ্দেশ্য কী জীবনের? তবে কবিতায় কিছু উত্তর ও দেয়া আছে। আপনি যে বেঁচে আছেন আর আপনার যে নিজের পরিচয় আছে এটাই কি অনেক বড় কিছু না? হ্যাঁ নিজেকে মোটিভেট করতে গেলে মাঝে মাঝে এসব কথায় বিশ্বাস স্থাপন করতে হয় কারণ নিজেকে আজীবন ইনফেরিওর ভাবলে জীবনে সব পাওয়া হয়ে গেলেও তৃপ্তি মেলে না। তার উপর যদি আপনার দেশ এর নাম বাংলাদেশ হয়ে থাকে তাহলে এইখানে বেঁচে থাকা কোনো বিশ্বযুদ্ধ জয় করার চেয়ে কম নয় বৈকি। কবিতায় কবি এই দুনিয়াকে একটা বিরাট নাট্যমঞ্চ ও বলেছেন এবং নিজের অবদান কে নাটকের নতুন ডায়ালগ হিসেবে অ্যাড করার কথা বলেছেন। যে বড় কিছু করবে তার অবদান এই নাটকে অ্যাড হয়ে যাবে । ব্যাপার টা এমন যেন একটা মুভি তে তো অনেকেই অডিশন দেয় রোল ও পায় রেকর্ড ও করা হয় তবে অনেকসময় পোষ্ট প্রসেস এ কেটে দেয়া হয়। সবার টা তো আর মুভি তে থাকে না। আর এই বিরাট নাট্যমঞ্চ নামক পৃথিবী তে কিছু মানুষ, সত্যি বলতে বেশিরভাগ মানুষ নিজেকে নিয়ে না ভেবে মানুষ তাকে নিয়ে কি ভাবছে তাই নিয়ে বেশি মাতামাতি করে। কিছু মানুষের ভাষায় আমি নাকি সমাজবঞ্চিত প্রাণী, সমাজবহির্ভূত মানুষ। আমার ফিলোসফি দিয়ে নাকি সমাজ এ টেকা যায় না । সমাজে থাকতে গেলে নাকি সবার টাই ভেবে দেখতে হয়। হ্যাঁ সেই জন্যেই তো আপনি ৫-৬ বছর স্নাতক পাশ করে জব প্রেপ নিয়ে ৩০ বছর বয়সে এসে একটা ১২৫ সিসি ডিসকভার কেনার আগে ভাবেন থাক বিয়ের সময় শ্বশুর এর থেকে নিব এখন আর অপু ভাই কোটি টাকার গাড়িতে করে ঘুরে বেড়ায়। না আমি তার কন্টেন্ট এর জাস্টিফিকেশন দিচ্ছি না, আমি আপনাকে বুঝাচ্ছি যে যার জন্যে আপনি এত ভাবতেছেন সে আপনাকে নিয়া ঘন্টাও কিছু ভাবে না। আমি জানি জীবনে টাকা পয়সার গুরুত্ব আছে তবে নিজের জীবনের নিজের শখের ও আছে। আপনি বলতে পারেন আমি আমার দুনিয়ার কাছে নোবডি হতে পারি কিন্তু আমি আমার পরিবারের কাছে হিরো ই। হাহা আপনি আপনার পরিবারের কাছেও নোবডি ই। মনে করে দেখেন যেদিন আপনার রেজাল্ট খারাপ হয়েছিল মনে করে দেখেন যেদিন আপনার পকেট এর হাল খারাপ ছিল। হয়তো কিছু নোবডি আপনার পাশে ছিল হয়তো পরিবারের অনেকে আপনার পাশে দাঁড়ায় নি। আবার কারো কারো পরিবার দাঁড়ায় ও। তবে আপনার জীবনের সার্থকতা যতক্ষণ আপনার দেহে রূহ আছে ততক্ষন ই। নিজেকে নিয়ে ভাবা নিজের শখ আহ্লাদ নিয়ে ভাবা তাই অত্যন্ত জরুরি। চারটা রেজাল্ট খারাপ হইলে যারা আপনাকে ত্যাজ্য করে দেয়, শপিং এ না নিয়ে যেতে পারলে যে আপনার সাথে ব্রেকআপ করে দেয়, চাকরির অভাবে যে আপনার বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়, ১ কাঠা জমির জন্য যে আপনার উপর মামলা করে দেয় সে বসন্তের কোকিল বৈ আর কিছু নয়। মরদ মানুষের যে কষ্ট হয় না মরদ মানুষ কাঁদে না এমন কিছুই না। আমার নিজেরও এখন আফসোস হয় কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে। যেই পরিবারের উপর এক্সট্রিম প্রেশার পড়বে বলে নিজের কিছু শখের কুরবানী আমি দিছিলাম আমার খারাপ সময়ে সেই পরিবার আমাকে কটাক্ষ করতে বাঘে ফেলতে তো দুই বার ও ভাবে নি। তাদের উপর প্রেশার দিলে না হয় তাদের ই সমস্যা হতো মাগার আমি হয়তো ভালো থাকতাম। লক্ষ্য করিয়েন, আপনার পাশের বাসার ছাপরি হয়তো বাপ মা কে শূলে চড়িয়ে মোটরসাইকেল কিনে নিচ্ছে ওর বাপ ওকে ১ দিন ১০দিন ৩০ দিন গালাইলো তারপর চুপ । সব নরমাল। তেমনি আপনি যে আপনার বাসার কাছে একই আবদার টা করেন নাই আপনার প্রশংসা টাও ১ দিন ১০দিন ৩০দিন ই তারপর এসব নরমাল। অর্থাৎ এই কাজের জন্য আপনি ব্রাউন পারেন্ট দের কাছে খারাপ সময়ে কোনো বেনিফিট পাবেন না। অর্থনীতির ছাত্র হওয়ায় একটা কনসেপ্ট শিখেছি। মানব মস্তিষ্ক রেশনাল চিন্তা করে। সবকিছু তেই নিজের ফায়দা খোঁজে। অর্থাৎ আপনি নিজের যেই ফায়দা আশা করে কিছু ইচ্ছার ত্যাগ দিলেন সেইটা আপনার আসলেই কোনোদিন হবে না। যেই সমাজ কে হ্যাপি করতে আপনার বাপ মা আপনাকে বলতেছে নিছক ওই সমাজের কোনোদিন আপনাকে নিয়ে ভাবার ও সময় হয় নি। কে ভাবে কাকে নিয়ে? আপনি নিজেকেই দেখেন। আপনিতো ভাবতেছিলেন কিভাবে সমাজ কে হ্যাপি করা যায়। সেই সমাজের প্রত্যেকে ও এটাই ভাবতেছিলো কিভাবে সমাজ কে হ্যাপি করা যায়! হয়তো আপনি পেইন্টিং অনেক ভালো পারতেন। হয়তো আপনি খেলাধুলা অনেক ভালো জানেন। হতে পারে ক্রিকেট হতে পারে ফুটবল। হতে পারে আপনি ফ্রী ফায়ার পবজী অনেক ভালো খেলেন কিংবা ভালো খেলেন ফিফা ক্রিকেট ০৭! হতেই পারে আপনার সিনেমাটোগ্রাফি অনেক সুন্দর কিংবা ছবি তোলার চেয়ে মডেল হিসেবে আপনি বেশি পারফেক্ট। হয়তো আপনার গান গাইতে ভালো লাগে। হয়তো আপনার গার্ডেনিং পছন্দ। হয়তো বা আপনার লেখালেখি ভালো লাগে। যেকোনো কিছুই হোক। আমিতো ক্যারিয়ার করতে বলছি না। অন্তত শখ টা কে সময় দিন। সবাই তো খালি বিসিএস দেবো, সরকারি চাকরি করব, বিদেশ যাবো, বেসরকারি চাকরির করব এসব নিয়েই আছেন, কিছু সময় নিজেকেও দেন, যেই সময়টা নিজেকে দেবেন ঐটাই আপনাকে এনার্জি দিবে বাকি কাজ গুলো করার, হতেই পারে আপনার ওই রিলেটেড ফিল্ড এ ক্যারিয়ার ও হয়ে গেলো। যদি হয়ে যায়, তো এফিসিয়েন্সি বেড়ে যাবে যেকোনো ফিল্ড এ আমাদের, সবাই যদি এমন জিনিসের পিছেই ছুটি যেটায় আমাদের স্কিল না এর বরাবর সেখানে ভালো করার সম্ভাবনা অনেক ক্ষীণ।
চলে গেছেন হয়তো আমাকে গালি দিতে তাই না? ঠিকই আছে আমি আর কে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর অর্থনীতি বিভাগের ১৮ হাজার ফলোয়ার রাখা একজন নেহায়তি জনৈক পুরুষ। তার কথা শুনে কি হবে। আপনার কাছে পরিবার সমাজ ই তো সব। আপনি কেনো পৃথিবীর গল্পে কিছু লিখতে যাবেন। ঠিক আছে আমি তো কিছুই না। ওসমান হাদি কে তো মনে হয় চিনেন। না ও চিনতে পারেন অবশ্য যান্ত্রিক জীবনে সবদিকে তাকানোর ফুরসৎ ই বা হয় কোথায়? মানুষের তো সবার আগে পরিবার তাই না? হাদির সাথে যা হয়েছে টা স্পষ্টত আপনার সমাজের নিয়মের বাহিরে। কিন্তু তাতে কি? কিছু কি যায় আসছে? আসে নি তাই না। সমাজে এক শ্রেনীর মানুষ হয়তো প্রতিবাদ জানাইছে। জানেন কেনো? কারণ হাদি অন্তত পৃথিবীর গল্পে কিছু একটা লিখে গেছে। নাহলে আপনার এই সমাজ কিন্তু কাউকে নিয়ে ভাবে না। আপনিই বলুন তো আপনি কাকে নিয়ে ভেবেছেন আজ অবধি? না মানে আপনার বাসার পাশের মুদি দোকানে দিনে কত টাকার বেচাকেনা হয় দোকানদার দাদার কাছে সেই হিসাব টাও শুনেছিলেন? বড়জোর সকাল বেলা অফিস এ যাওয়ার পথে দাদার বউয়ের ব্লাউজের রং খানা দেখে গিয়েছিলেন।
রাগিয়েন না। মানুষ তো সবাই। এসবই মানুষের ফিতরত।
সমাজ না হয় নাই। পরিবার তো আছে। হ্যাঁ আছে তো। হাদি রো ছিল পরিবার। তার পরিবারের সদস্য আপাতত সদ্য আবিষ্কৃত গায়েবী পোষ্ট এ বিদেশ গমনের পথে।
তার ও সময় লাগে নি আসলে হাদি কে ভুলতে। তবে হাদি পৃথিবীর গল্পে কিছু লিখেছে বিধায় তার পরিবারের কেউ সওদা করতে পারছে তাকে নিয়ে। আপনাকে নিয়ে তো ভাই কেউ সেটাও করতে পারবে না। আপনার পরিবার হয়তো আপনাকে মরার পর ও গালি এ দিবে যে
"শালা মরার আগে আমাদের জন্য কিছু করেও গেলো না। বেটা নিজেতো মরে বেঁচে গেলো আমাদের মরতে রেখে গেলো"
তাই সময় থাকতে নিজেকে সময় দিন। আপনাকে নিয়ে ভাবার সময় কারো কখনোই ছিল না। সকলের তরে সকলে মোরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে, এই পরের তরে হিত হতেও নিজেকে ফ্রেশ থাকতে হয় সবল রাখতে হয় শারীরিক মানসিক দুই ভাবেই। তাই মানুষকে নিয়ে না ভেবে নিজের ভালো লাগার ব্যাপারে ভাবুন। যত সমস্যাই থাক দেখবেন ভালো বোধ করা শুরু হয়ে গেছে।
Comments
Post a Comment