এক বন্ধুকে একদিন সন্ধ্যায় কফির নিমন্ত্রণ করেছিলাম। বন্ধু হেসে বলল,
- রিজিকে থাকলে ইনশাআল্লাহ কফি খেতে আসব।
একটু অবাক হয়ে বললাম,
- আমি সবসময় তোর মুখে এই লাইনটা শুনি। ধর্মীয় বিশ্বাস হতে বলিস নাকি কোন ঘটনা আছে?
বন্ধু একটু ইমোশনাল হয়ে গেল। বলল,
- কয়েক বছর আগের ঘটনা। মধ্যপ্রাচ্যের একটা দেশে অফিসের কাজে সংক্ষিপ্ত ট্যুরে গিয়েছিলাম। সেখানে অন্যান্য দেশের আরো কয়েকজন আমন্ত্রিত অতিথি এসেছিলেন। আমি একজন ইউরোপিয়ানকে নিয়ে হোটেল হতে একটা পোর্টে গিয়েছি। পোর্টে আমাদের কাজ সেরে ফেরার সময় ভদ্রলোক বললেন, আমার খুব ক্ষিদা পেয়েছে, আর খুব পিৎজা খেতে ইচ্ছা করছে।
বন্ধু একটু থেমে যোগ করল,
- আমরা মাঝপথে পিৎজা হাটের একটা আউটলেটে থেমেছি। উনি রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলেন, আমি কাউন্টারে গিয়ে বিল শোধ করে দুইটা চিকেন পিৎজা অর্ডার করে উনার সামনে গিয়ে বসলাম।
মিনিট বিশেক পর ওয়েটার দুইটা চিকেন পিৎজা নিয়ে এলো। উনি চিকেন দেখে বললেন,
- আমার খুব ভেজিটেবল পিৎজা খেতে ইচ্ছা করছে। পাওয়া যাবে?
আমি আবার উঠে গিয়ে ভেজিটেবল পিৎজার দাম শোধ করে অর্ডার দিয়ে এলাম। ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে দেখে আমি ধীরে ধীরে আমার চিকেন পিৎজায় কামড় বসাচ্ছিলাম। ওয়েটার মিনিট পনেরো পরেই ভেজিটেবল পিৎজা নিয়ে এলো।
বিশ্বাস করবি না, এরপরই ভদ্রলোক বুকব্যথায় একপাশে কাত হয়ে গেলেন। তারপর সেই ডাবল চেয়ারে কাত হয়ে শুয়ে গেলেন। স্ট্রোক বা হার্ট এটাক আন্দাজ করে রেস্টুরেন্টে জানাতেই ওরা ইমার্জেন্সি কল করল।
৭ মিনিটে অত্যাধুনিক এম্বুলেন্স এসে হাজির। ১৭ মিনিটের মাথায় উনি শহরের সেরা হাসপাতালের সিসিইউতে। কিন্তু ডাক্তাররা ১৫ মিনিট চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারলেন না। বয়স হয়েছিল মাত্র পঞ্চান্ন। উনি সম্ভবত হাসপাতালে আনার পথেই মারা গিয়েছেন।
বন্ধু শেষে একটু ভারী গলায় বলল,
- উনি খেতে চাইলেন, আমরা রেস্টুরেন্টে থামলাম। অর্ডার করলাম, পিৎজাও চলে এলো। চিকেন হলে হয়ত খাওয়া হয়ে যেত। কিন্তু উনি চেয়েছিলেন ভেজিটেবল পিৎজা খেতে। আমি দামও পরিশোধ করেছিলাম। পিৎজাও টেবিলে চলে এলো। কিন্তু সেই ভেজিটেবল পিৎজা উনি এক কামড়ও খেতে পারলেন না। আর কোনদিন খাওয়াও হবে না।
কারণ, সেই ভেজিটেবল পিৎজা উনার রিজিকে ছিল না!!
Comments
Post a Comment