📚 সৈয়দ মুজতবা আলী ও অন্নদাশঙ্কর রায়–এর দোকানের গল্প
একদিন সৈয়দ মুজতবা আলী গেলেন এক দোকানে।
জিজ্ঞেস করলেন, “ডায়মন্ড বলপেন আছে?”
সেলসম্যান সরাসরি বললো, “নেই।”
এখানেই প্রথম ভুলটা হলো।
ক্রেতা একটা নির্দিষ্ট জিনিস চেয়েছেন—তা নেই মানে কি তার প্রয়োজনটাই শেষ?
না। তার প্রয়োজন বলপেন, ব্র্যান্ড না।
মুজতবা আলী চলে যাচ্ছিলেন।
হঠাৎ আবার ফিরে এসে জিজ্ঞেস করলেন,
“অন্য কী বলপেন আছে?”
সেলসম্যান তখন তালিকা ধরলো—পাওয়ার, সুলেখা, ব্রাইট…
অর্থাৎ পণ্য ছিল, বিকল্প ছিল,
কিন্তু উপস্থাপন ছিল না।
এখানেই মুজতবা আলীর শিক্ষা—
সেলসম্যানশিপ মানে শুধু জিনিস বিক্রি না,
ক্রেতার প্রয়োজন বোঝা।
যখন তিনি “ডায়মন্ড” চেয়েছিলেন,
উত্তরটা হওয়া উচিত ছিল—
“ডায়মন্ড নেই স্যার, তবে পাওয়ার, সুলেখা, ব্রাইট আছে। দেখতে পারেন।”
অর্থাৎ “না” বললেও দরজা বন্ধ করা যাবে না।
“না”-র সাথে “এই আছে” যোগ করতে হয়।
সেলসম্যানরা লজ্জিত হলো,
কিন্তু শিখলো।
কিছুক্ষণ পর এলেন সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায়।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন,
“টয়লেট পেপার আছে?”
এবার শিক্ষিত সেলসম্যান আত্মবিশ্বাসের সাথে বললো—
“টয়লেট পেপার একটু আগে শেষ হয়ে গেছে। তবে শিরিষকাগজ আছে। দেবো?”
এখানেই দ্বিতীয় ভুল।
কারণ বিকল্প দেখানো মানেই যেকোনো কিছু প্রস্তাব করা না।
বিকল্প হতে হবে যুক্তিসঙ্গত, ব্যবহারযোগ্য এবং প্রাসঙ্গিক।
বলপেনের বদলে অন্য ব্র্যান্ড দেওয়া যায়—
কারণ কাজ এক।
কিন্তু টয়লেট পেপারের বদলে শিরিষকাগজ?
এটা শুধু অপ্রাসঙ্গিক না,
বরং হাস্যকর।
এই গল্পের ভেতরে দুইটা বড় শিক্ষা আছে—
১️⃣ বিক্রয় মানে প্রয়োজন বোঝা
ক্রেতা কী নাম বলছে সেটা না,
সে কী কাজে ব্যবহার করবে সেটা বোঝা জরুরি।
২️⃣ বিকল্প মানে যুক্তিসঙ্গত বিকল্প
সব কিছুর বদলে সব কিছু চলে না।
প্রাসঙ্গিকতা না থাকলে বিকল্প প্রস্তাব ব্যঙ্গ হয়ে যায়।
এই ছোট্ট হাস্যরসের গল্প আসলে শেখায়—
জীবনেও তাই।
কেউ যদি “ডায়মন্ড” না পায়,
তাকে “পাওয়ার” দেওয়া যায়।
কিন্তু “শিরিষকাগজ” ধরিয়ে দিলে
সম্পর্কও নষ্ট হয়, বিশ্বাসও নষ্ট হয়।
সেলসম্যানশিপ হোক বা জীবন—
বুদ্ধি আর প্রাসঙ্গিকতা—
Comments
Post a Comment